সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। একই সঙ্গে মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
মধ্যরাতে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ছয়
বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক শিশুর চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে কথাকাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় দুই ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। অন্য আহতদের মধ্যে কয়েকজন রোগীর স্বজনও রয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

উত্তেজনায় আতঙ্কিত রোগী ও স্বজনরা
সংঘর্ষের সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কিছু সময় ধরে উত্তেজনা বিরাজ করলেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঘটনার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা হাতে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে।
নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি
ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংগঠন এক বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটি জানিয়েছে, দাবি পূরণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
তদন্ত চলছে
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত সংকট সমাধানের মাধ্যমে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















