যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর গোপন সমন্বয়ের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে তিনটি শীর্ষ ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৫ কোটির বেশি ডিম খাদ্যব্যাংকে দান এবং কয়েক মিলিয়ন ডলার অর্থ পরিশোধে সম্মত হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেই এই সমঝোতায় রাজি হয়েছে।
মূল অভিযোগ কী
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ দিকে দেশের তিনটি বড় ডিম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা একাধিক ফোনালাপ, বার্তা আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
তদন্তে দাবি করা হয়েছে, তারা অনলাইনভিত্তিক পাইকারি লেনদেন ব্যবস্থায় একই সময়ে উচ্চ দামে ক্রয়প্রস্তাব দিয়ে বাজারদর প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। এই লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতেই শিল্পখাতে বহুল ব্যবহৃত মূল্যসূচক নির্ধারিত হয়, যা পরে খুচরা বাজারেও প্রভাব ফেলে।
তদন্তকারীদের মতে, কয়েক দিনের ধারাবাহিক পদক্ষেপের পর সংশ্লিষ্ট মূল্যসূচকে ডিমের দাম বাড়ানো হয় এবং পরে বাজারে নতুন রেকর্ড মূল্য দেখা যায়।
সমঝোতার শর্ত
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, অভিযোগ নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে ৫ কোটির বেশি ডিম খাদ্যব্যাংকে দেবে। পাশাপাশি তদন্তে অংশ নেওয়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যকে মোট ৩৩ লাখ ডলার পরিশোধ করবে। তবে এই সমঝোতা কার্যকর হতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার
অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, তারা কোনো বেআইনি কাজ করেনি। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ বাজারদর পরিবর্তনে কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং তাদের সব কার্যক্রম আইনসম্মত ছিল।
একটি প্রতিষ্ঠান বলেছে, সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে। আরেকটি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলো তাদের মালিকানা পরিবর্তনের আগের সময়ের, তাই বর্তমান মালিকানার সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক নেই।
ডিমের বাজারে কী ঘটছিল
এই ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের সরবরাহ বড় ধরনের সংকটে পড়ে। পাখির ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রাদুর্ভাবে কোটি কোটি মুরগি ও টার্কি মারা যাওয়ায় উৎপাদন কমে যায় এবং বাজারে ডিমের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে।
পরবর্তী সময়েও রোগের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দাম আরও বেড়ে যায়। অনেক সুপারমার্কেটে ডিম কেনার সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং বিভিন্ন রেস্তোরাঁ অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া শুরু করে।
কীভাবে দাম নির্ধারণ হয়
অনেক ভোক্তার অজানা হলেও ডিমের ব্যবসায় একটি বিশেষ অনলাইন পাইকারি বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু নিজেদের উৎপাদিত ডিম বিক্রি করে না, প্রয়োজনে অন্য সরবরাহকারীদের কাছ থেকেও ডিম কিনে থাকে।
এই বাজারের লেনদেন ও মূল্যতথ্যের ভিত্তিতে শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূল্যসূচক নির্ধারণ করা হয়। পরে সেই মূল্যসূচক অনুসারেই মুদি দোকান ও সরবরাহকারীদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক দাম নির্ধারণ হয়। ফলে পাইকারি পর্যায়ের সামান্য পরিবর্তনও শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতার পরিশোধ করা মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কৌশল ব্যবহার করেছিলেন, যাতে বাস্তবে সব লেনদেন সম্পন্ন না হলেও বাজারে উচ্চমূল্যের ধারণা তৈরি হয় এবং মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়।
এই মামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিমের বাজারে প্রতিযোগিতা, মূল্য নির্ধারণ এবং ভোক্তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















