বেঙ্গালুরু-মাইসুরু এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত গাড়িকে থামিয়ে শিশুদের সামনে একটি পরিবারের ওপর একদল ব্যক্তির হামলার ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে মহাসড়কে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে
ভাইরাল হওয়া ৫২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ছোট ব্যক্তিগত গাড়িকে জোর করে মহাসড়কের মাঝপথে থামানো হয়। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটি ঘিরে চালকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়।
ঘটনাটি রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদ্দুর এলাকার কাছে যানজটের মধ্যে ঘটেছে বলে জানা গেছে। পেছনে থাকা আরেকটি গাড়ির ড্যাশক্যামে পুরো ঘটনাটি ধারণ হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সামান্য ধাক্কা থেকে বড় সংঘর্ষ
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি সামনে থাকা আরেকটি গাড়িকে ধাক্কা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সেই উত্তেজনা মারামারিতে রূপ নেয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হামলার শিকার চালকের স্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আশপাশের কয়েকজন পথচারী ও অন্য গাড়ির যাত্রীরাও সংঘর্ষ থামানোর উদ্যোগ নেন। ওই গাড়িতে চালক, তাঁর স্ত্রী, সন্তান এবং এক বয়স্ক নারী ছিলেন।
তিনজন গ্রেপ্তার
হামলায় আহত চালক পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর তদন্ত শুরু হয়। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভিডিও ভাইরাল, কঠোর ব্যবস্থার দাবি
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকে বলেছেন, মহাসড়কে এমন সহিংসতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, আইন মেনে চলা সাধারণ মানুষ যদি এভাবে হামলার শিকার হন, তাহলে সড়কে নিরাপদে চলাচলের নিশ্চয়তা কোথায়। আবার অনেকেই নিজেদের সড়কে হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দ্রুত ও কঠোর আইন প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘিরে সড়কে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং সামান্য বিরোধ কীভাবে মুহূর্তেই সহিংসতায় রূপ নিতে পারে—সেসব বিষয় আবারও আলোচনায় এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















