চলতি বছরের এল নিনো অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এটি প্রত্যাশার চেয়েও শক্তিশালী রূপ নিতে পারে, যার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও তীব্র হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান পূর্বাভাসগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিভিন্ন আবহাওয়া মডেলের ফলাফলও একই ধরনের প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বিরল চিত্র
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এল নিনো পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতায় এমন শক্তিশালী এবং প্রায় সব পূর্বাভাস মডেলে একই ধরনের ফলাফল আগে দেখা যায়নি। এ কারণে এবারের ঘটনাটি নজির গড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।

তাদের মতে, বর্তমান পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হলে সেটিই হবে সবচেয়ে বড় বিস্ময়। যদিও প্রকৃতির আচরণে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়, তবু বিদ্যমান তথ্য বলছে এল নিনো এবার ইতিহাস গড়তে পারে।
এল নিনো কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ
এল নিনো হলো এমন একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া ঘটনা, যেখানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়।
সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এই ঘটনা ঘটে এবং প্রায় নয় থেকে বারো মাস পর্যন্ত এর প্রভাব স্থায়ী হতে পারে। তবে প্রতিবার এর তীব্রতা এক রকম হয় না।

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ছে ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর প্রভাব এখন আরও বেশি তীব্র হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির পেছনেও এল নিনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তাদের মতে, শক্তিশালী এল নিনো দেখা দিলে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যা, আবার কোথাও কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং পানিসম্পদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশকে সম্ভাব্য আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















