১২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রবাসের ইতিহাস শুধু নস্টালজিয়া নয়, নতুন পরিচয়েরও নির্মাণ স্যামসাংয়ে বোনাস বৈষম্যে ক্ষোভ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মুনাফায় বাড়ছে কর্মীদের বিভাজন ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, সীমান্তজুড়ে আগুনের তাণ্ডবে ১০ হাজার মানুষের সরিয়ে নেওয়া আপন করে নিচ্ছে বিশ্বকাপ, রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝেও ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মালাক্কা প্রণালি নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখতে একমত সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া সংকটময় বিশ্বে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে কানাডা, বদলে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা কৌশল সংকটে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, প্যাট্রিয়টের অভাবে বাড়ছে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলা ডিমের দাম বাড়াতে গোপন সমন্বয়ের অভিযোগ, কোটি কোটি ডিম দান ও অর্থ পরিশোধে সমঝোতা আলাস্কায় তেলের ভাণ্ডার, তবু জ্বালানির দামে হাঁসফাঁস—গ্যালনপ্রতি প্রায় ১০ ডলারের ধাক্কা মহাতাপে গলছে ইউরোপের অর্থনীতি, উৎপাদন কমে বাড়ছে বিদ্যুতের বিল ও খাদ্যের দাম

ন্যাটোর নতুন অধ্যায় কি ইউরোপকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

নর্থ আটলান্টিক সামরিক জোট বা ন্যাটো প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছরেরও বেশি সময় পর এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, ইউরোপের প্রতিরক্ষা এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে জোটটির ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আলোচনায়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ন্যাটো এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রতিরোধমূলক জোটের পরিবর্তে আরও সক্রিয় সামরিক ও কৌশলগত ভূমিকায় এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব শুধু ইউরোপেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

মিত্রজোট থেকে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি

শীতল যুদ্ধের সময় ন্যাটোর মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব মোকাবিলা করা এবং পশ্চিম ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সময় জোটটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই ছিল।

কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ন্যাটো ভেঙে না গিয়ে বরং পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে সদস্য করে নিজেদের পরিসর বাড়াতে থাকে। একই সঙ্গে ইউরোপের বাইরে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে জোটটি আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ভূমিকা নিতে শুরু করে।

NATO 3.0 and the Nuclear Arsenal It Requires — Global Security Review

রাশিয়ার সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে একটি স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ন্যাটোর ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান ক্রমেই মুখোমুখি হয়ে ওঠে।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সম্ভাব্য ন্যাটো সদস্যপদকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখে এসেছে। সেই বিরোধ শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও জটিল করে তোলে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর নতুন বাস্তবতা

ইউক্রেন যুদ্ধ ন্যাটোর জন্য একটি নতুন মোড় তৈরি করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পথে হাঁটছে। সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার করা এবং আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থায় বিনিয়োগ এখন অনেক দেশের অগ্রাধিকারে রয়েছে।

একই সঙ্গে ইউরোপের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতের অনিশ্চিত আন্তর্জাতিক পরিবেশে মহাদেশটির কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

কেন বাড়ছে সামরিক ব্যয়

Where the Ukraine War Goes From Here | Tufts Now

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক কারণেও ইউরোপের অনেক দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। নতুন সামরিক উৎপাদন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শিল্পখাতকে গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি

মস্কোর দৃষ্টিতে বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উদ্বেগজনক। রাশিয়া মনে করে, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন আরও সক্রিয়ভাবে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার পথে এগোচ্ছে।

রুশ অবস্থান অনুযায়ী, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা শুধু ইউক্রেনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নতুন সংকটের মুখে পড়তে পারে।

Russia Masses 50,000 Troops Around Sumy, Putting Ukraine in Precarious  Position - WSJ

সংঘাতের ঝুঁকি কতটা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভুল হিসাব, অতিরিক্ত সামরিক প্রতিযোগিতা কিংবা কূটনৈতিক যোগাযোগের ঘাটতি বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র, আধুনিক ড্রোন এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিস্তার যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে একই সঙ্গে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সংলাপ, আস্থা পুনর্গঠন এবং নতুন নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি।

বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ন্যাটোর পরিবর্তিত ভূমিকা ইউরোপের নিরাপত্তা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক প্রস্তুতি বাড়লেও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসের ইতিহাস শুধু নস্টালজিয়া নয়, নতুন পরিচয়েরও নির্মাণ

ন্যাটোর নতুন অধ্যায় কি ইউরোপকে আরও বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে?

১১:১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

নর্থ আটলান্টিক সামরিক জোট বা ন্যাটো প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছরেরও বেশি সময় পর এখন এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, ইউরোপের প্রতিরক্ষা এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে জোটটির ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি আলোচনায়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ন্যাটো এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রতিরোধমূলক জোটের পরিবর্তে আরও সক্রিয় সামরিক ও কৌশলগত ভূমিকায় এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব শুধু ইউরোপেই নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

মিত্রজোট থেকে বিস্তৃত সামরিক উপস্থিতি

শীতল যুদ্ধের সময় ন্যাটোর মূল লক্ষ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব মোকাবিলা করা এবং পশ্চিম ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সময় জোটটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই ছিল।

কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ন্যাটো ভেঙে না গিয়ে বরং পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে সদস্য করে নিজেদের পরিসর বাড়াতে থাকে। একই সঙ্গে ইউরোপের বাইরে বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে জোটটি আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ভূমিকা নিতে শুরু করে।

NATO 3.0 and the Nuclear Arsenal It Requires — Global Security Review

রাশিয়ার সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে একটি স্থায়ী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ন্যাটোর ধারাবাহিক সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেনকে ঘিরে নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান ক্রমেই মুখোমুখি হয়ে ওঠে।

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের সম্ভাব্য ন্যাটো সদস্যপদকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখে এসেছে। সেই বিরোধ শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও জটিল করে তোলে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধের পর নতুন বাস্তবতা

ইউক্রেন যুদ্ধ ন্যাটোর জন্য একটি নতুন মোড় তৈরি করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পথে হাঁটছে। সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার করা এবং আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থায় বিনিয়োগ এখন অনেক দেশের অগ্রাধিকারে রয়েছে।

একই সঙ্গে ইউরোপের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভবিষ্যতের অনিশ্চিত আন্তর্জাতিক পরিবেশে মহাদেশটির কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

কেন বাড়ছে সামরিক ব্যয়

Where the Ukraine War Goes From Here | Tufts Now

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নিরাপত্তা নয়, অর্থনৈতিক কারণেও ইউরোপের অনেক দেশ প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। নতুন সামরিক উৎপাদন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং শিল্পখাতকে গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ইউরোপের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে জনমত তৈরির চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি

মস্কোর দৃষ্টিতে বর্তমান পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি উদ্বেগজনক। রাশিয়া মনে করে, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন আরও সক্রিয়ভাবে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার পথে এগোচ্ছে।

রুশ অবস্থান অনুযায়ী, যদি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে তা শুধু ইউক্রেনের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পুরো ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো নতুন সংকটের মুখে পড়তে পারে।

Russia Masses 50,000 Troops Around Sumy, Putting Ukraine in Precarious  Position - WSJ

সংঘাতের ঝুঁকি কতটা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভুল হিসাব, অতিরিক্ত সামরিক প্রতিযোগিতা কিংবা কূটনৈতিক যোগাযোগের ঘাটতি বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র, আধুনিক ড্রোন এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বিস্তার যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তবে একই সঙ্গে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সংলাপ, আস্থা পুনর্গঠন এবং নতুন নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি।

বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ন্যাটোর পরিবর্তিত ভূমিকা ইউরোপের নিরাপত্তা, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক প্রস্তুতি বাড়লেও স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক উদ্যোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।