১২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
প্রবাসের ইতিহাস শুধু নস্টালজিয়া নয়, নতুন পরিচয়েরও নির্মাণ স্যামসাংয়ে বোনাস বৈষম্যে ক্ষোভ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মুনাফায় বাড়ছে কর্মীদের বিভাজন ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, সীমান্তজুড়ে আগুনের তাণ্ডবে ১০ হাজার মানুষের সরিয়ে নেওয়া আপন করে নিচ্ছে বিশ্বকাপ, রাজনৈতিক বিভাজনের মাঝেও ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র মালাক্কা প্রণালি নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখতে একমত সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়া সংকটময় বিশ্বে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে কানাডা, বদলে যাচ্ছে প্রতিরক্ষা কৌশল সংকটে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, প্যাট্রিয়টের অভাবে বাড়ছে রাশিয়ার প্রাণঘাতী হামলা ডিমের দাম বাড়াতে গোপন সমন্বয়ের অভিযোগ, কোটি কোটি ডিম দান ও অর্থ পরিশোধে সমঝোতা আলাস্কায় তেলের ভাণ্ডার, তবু জ্বালানির দামে হাঁসফাঁস—গ্যালনপ্রতি প্রায় ১০ ডলারের ধাক্কা মহাতাপে গলছে ইউরোপের অর্থনীতি, উৎপাদন কমে বাড়ছে বিদ্যুতের বিল ও খাদ্যের দাম

ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন বিতর্ক, চার দিকেই বাড়ছে প্রভাব বিস্তারের আলোচনা

পশ্চিম তীরজুড়ে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া এবং সাইপ্রাসকে ঘিরেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ইসরায়েলের উপস্থিতি বাড়ার প্রবণতা ভবিষ্যতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন বসতি পরিকল্পনা

সম্প্রতি পশ্চিম তীরের দখলকৃত এলাকায় ১৩টি নতুন ইহুদি বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব বসতি উত্তর ও দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঘিরে গড়ে তোলা হবে, যেখানে আগে থেকেই বহু বসতি ও আউটপোস্ট রয়েছে।

বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শত শত বসতি এবং আউটপোস্টে কয়েক লাখ ইহুদি বসবাস করছেন। এসব বসতির বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে ইসরায়েল সরকার এই নীতিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক অধিকারের অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।

Just inside Lebanon, Israeli soldiers debate how far to go

লেবাননে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশে এখনও ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত পূরণ হলে সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, লেবাননের কিছু সম্প্রদায় নিরাপত্তার কারণে ইসরায়েলের সুরক্ষা চেয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিনিধি এই বক্তব্য অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়নি।

সিরিয়া সীমান্তেও উত্তেজনা

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী সীমান্ত অতিক্রম করে নতুন স্থাপনা গড়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করা আইনবিরোধী এবং এটি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী ওই এলাকায় ভবিষ্যতে স্থায়ী বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

একই সময়ে ওই সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামোও আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

Israeli home purchases by foreign residents jump 50% - Globes

সাইপ্রাসে বাড়ছে ইসরায়েলিদের উপস্থিতি

সামরিক নয়, ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে সাইপ্রাসেও ইসরায়েলিদের উপস্থিতি বাড়ছে। গত কয়েক বছরে দেশটিতে হাজার হাজার আবাসন কিনেছেন ইসরায়েলি নাগরিকরা। এর ফলে সাইপ্রাসে ইসরায়েলি পরিবারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই প্রবণতা দ্বীপটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন ধরনের প্রভাব তৈরি করতে পারে। যদিও সম্পত্তি কেনাবেচার পুরো প্রক্রিয়াই দেশটির আইনের আওতায় সম্পন্ন হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে আলোচনা

পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি সম্প্রসারণ, লেবানন ও সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা উপস্থিতি এবং সাইপ্রাসে ক্রমবর্ধমান সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে ইসরায়েলের আঞ্চলিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সমর্থকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসের ইতিহাস শুধু নস্টালজিয়া নয়, নতুন পরিচয়েরও নির্মাণ

ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন বিতর্ক, চার দিকেই বাড়ছে প্রভাব বিস্তারের আলোচনা

১১:১৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

পশ্চিম তীরজুড়ে নতুন ইহুদি বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে লেবানন, সিরিয়া এবং সাইপ্রাসকে ঘিরেও ইসরায়েলের নিরাপত্তা, সামরিক উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ইসরায়েলের উপস্থিতি বাড়ার প্রবণতা ভবিষ্যতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নতুন বসতি পরিকল্পনা

সম্প্রতি পশ্চিম তীরের দখলকৃত এলাকায় ১৩টি নতুন ইহুদি বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব বসতি উত্তর ও দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঘিরে গড়ে তোলা হবে, যেখানে আগে থেকেই বহু বসতি ও আউটপোস্ট রয়েছে।

বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে শত শত বসতি এবং আউটপোস্টে কয়েক লাখ ইহুদি বসবাস করছেন। এসব বসতির বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে ইসরায়েল সরকার এই নীতিকে নিজেদের নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক অধিকারের অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।

Just inside Lebanon, Israeli soldiers debate how far to go

লেবাননে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

দক্ষিণ লেবাননের একটি অংশে এখনও ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত পূরণ হলে সেনা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, লেবাননের কিছু সম্প্রদায় নিরাপত্তার কারণে ইসরায়েলের সুরক্ষা চেয়েছে। তবে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানীয় প্রতিনিধি এই বক্তব্য অস্বীকার করে জানিয়েছেন, এমন কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হয়নি।

সিরিয়া সীমান্তেও উত্তেজনা

সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলেও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী সীমান্ত অতিক্রম করে নতুন স্থাপনা গড়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করা আইনবিরোধী এবং এটি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সংশ্লিষ্ট কিছু গোষ্ঠী ওই এলাকায় ভবিষ্যতে স্থায়ী বসতি স্থাপনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

একই সময়ে ওই সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক অবকাঠামোও আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

Israeli home purchases by foreign residents jump 50% - Globes

সাইপ্রাসে বাড়ছে ইসরায়েলিদের উপস্থিতি

সামরিক নয়, ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে সাইপ্রাসেও ইসরায়েলিদের উপস্থিতি বাড়ছে। গত কয়েক বছরে দেশটিতে হাজার হাজার আবাসন কিনেছেন ইসরায়েলি নাগরিকরা। এর ফলে সাইপ্রাসে ইসরায়েলি পরিবারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই প্রবণতা দ্বীপটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন ধরনের প্রভাব তৈরি করতে পারে। যদিও সম্পত্তি কেনাবেচার পুরো প্রক্রিয়াই দেশটির আইনের আওতায় সম্পন্ন হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে আলোচনা

পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিম তীরে নতুন বসতি সম্প্রসারণ, লেবানন ও সিরিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা উপস্থিতি এবং সাইপ্রাসে ক্রমবর্ধমান সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে ইসরায়েলের আঞ্চলিক অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সমর্থকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।