অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশুদের পরিবারের মধ্যে বিচার ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠছে। স্বজনদের অভিযোগ, একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে ন্যায়বিচারের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
শিশুদের মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে ক্ষোভ
২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নবজাতক থেকে শুরু করে কিশোর—সব বয়সের শিশুই রয়েছে। প্রতিটি পরিবারের গল্পে উঠে এসেছে অপূরণীয় ক্ষতি, শোক এবং ন্যায়বিচার না পাওয়ার বেদনা।
স্বজনদের ভাষ্য, সন্তান হারানোর পর তারা শুধু শোকই বহন করছেন না, বরং দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সঙ্গেও লড়াই করছেন। তাদের দাবি, শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
আমির জাবেরের মৃত্যু নতুন করে আলোচনায়
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৫ বছর বয়সী আমির জাবেরের মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত মাসে রামাল্লার কাছে নিজ বাড়ির আশপাশে একটি সামরিক অভিযানের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, ঘটনাস্থলে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় সেনারা গুলি চালায়। তবে আমিরের পরিবারের সদস্যরা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের জবাবদিহি ছাড়াই তাদের সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে।
আমিরের স্বজনদের প্রশ্ন, নিরীহ শিশুদের মৃত্যুর জন্য শেষ পর্যন্ত কে দায় নেবে এবং কবে এর বিচার হবে।
জবাবদিহির অভাব নিয়ে উদ্বেগ
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, চলমান সংঘাতে ফিলিস্তিনি শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীগুলোর একটি। তাদের পর্যবেক্ষণে, পশ্চিম তীরে গুলি ব্যবহারের নীতিতে আগের তুলনায় আরও শিথিলতা দেখা যাচ্ছে, যা বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

নিহত শিশুদের পরিবারের অভিযোগ, এতগুলো প্রাণহানির পরও অধিকাংশ ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। তাদের মতে, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিচারের অপেক্ষায় পরিবারগুলো
পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় সন্তান হারানো পরিবারগুলো এখনো উত্তর খুঁজে ফিরছে। তাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক অঙ্গন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো শিশুদের মৃত্যুর ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের উদ্যোগ নেবে।
স্বজনদের ভাষায়, হারিয়ে যাওয়া সন্তানদের আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা গেলে অন্তত ভবিষ্যতে আরও নিরীহ প্রাণ রক্ষার পথ তৈরি হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















