সুপার টাইফুন বাভি ফিলিপাইনের দায়িত্বভুক্ত আবহাওয়া অঞ্চলে প্রবেশ করতেই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
বুধবার ভোরে টাইফুনটি দেশটির আবহাওয়া অঞ্চলে প্রবেশের পর এর স্থানীয় নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইনদাই’। এরপরই উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক এলাকায় প্রথম স্তরের ঝড়ো হাওয়ার সতর্ক সংকেত জারি করা হয়।
ভারী বর্ষণ ও বন্যার শঙ্কা
আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুপার টাইফুন ইনদাই দক্ষিণ দিক থেকে মৌসুমি বায়ুকে আরও সক্রিয় করবে। এর ফলে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সর্বোচ্চ ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এত বিপুল বৃষ্টির কারণে শহরাঞ্চল, নিচু এলাকা এবং নদীতীরবর্তী অঞ্চলে একাধিক স্থানে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ি ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভূমিধসের ঝুঁকিও বহাল থাকতে পারে।
কোথায় জারি হয়েছে সতর্ক সংকেত
প্রথম স্তরের ঝড়ো হাওয়ার সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে কাগায়ান উপত্যকা, বাতানেস দ্বীপপুঞ্জ, ইলোকোস, কর্ডিলেরা, সেন্ট্রাল লুজন এবং বিকোল অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়।
তবে কাগায়ান প্রদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার দুপুর পর্যন্ত সেখানে আবহাওয়া স্বাভাবিক ও রৌদ্রোজ্জ্বল ছিল। তাদের মতে, সতর্ক সংকেত জারির অর্থ এই নয় যে সঙ্গে সঙ্গে ঝড় বা বৃষ্টি শুরু হবে; বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।
ফিলিপাইনে আঘাতের সম্ভাবনা কম
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুপার টাইফুনটি সরাসরি ফিলিপাইনে আঘাত হানার সম্ভাবনা খুবই কম। বরং এটি সপ্তাহান্তে তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হয়ে পরে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আঘাত হানতে পারে।

তবুও এর প্রভাবে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় ফিলিপাইনের বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খরার মধ্যে আশার বৃষ্টি
কাগায়ানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তারা বলছেন, অঞ্চলটি গত ছয় মাস ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টি পেয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খরা ঘোষণা করার কথাও বিবেচনায় ছিল।
এদিকে ইসাবেলা প্রদেশের মাগাত বাঁধে পানির স্তর স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২০ মিটার নিচে নেমে গেছে। এতে কৃষকদের জন্য সেচ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। জলাধারের পানির স্বল্পতার কারণে গত মাসে মাছের খামারেও ব্যাপক মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা আশা করছেন, টাইফুনটি সরাসরি আঘাত না করলেও এর প্রভাবে যে বৃষ্টি হবে, তা দীর্ঘদিনের শুষ্ক পরিস্থিতি কাটিয়ে কৃষি ও জলসম্পদে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















