তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনে শুরুতে কঠোর অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত অনেকটাই নমনীয় সুরে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পেনকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন দাবি এবং ইরান প্রসঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্যের পর বৈঠক শেষে তিনি বলেন, সম্মেলনকক্ষে ছিল ‘অনেক ভালোবাসা’ এবং ‘অনেক ঐক্য’।
স্পেনকে ঘিরে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান
সম্মেলনের শুরুতে ট্রাম্প স্পেনকে ন্যাটোর ‘খারাপ অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ, জোটের দায়িত্ব পালনে স্পেন যথাযথ ভূমিকা রাখছে না এবং প্রতিরক্ষা ব্যয়েও প্রত্যাশিত অবদান দিচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য যোগাযোগ কমিয়ে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন। তার এমন বক্তব্য সম্মেলনের পরিবেশে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে।

ইরান ও গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গেও নতুন বার্তা
ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্য ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে, কারণ তারা সম্মেলনটিকে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য পেছনে ফেলে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।
বৈঠক শেষে বদলে যায় সুর
বন্ধ কক্ষের বৈঠক শেষে ট্রাম্পের বক্তব্যে আসে স্পষ্ট পরিবর্তন। তিনি বলেন, আলোচনার পরিবেশ ছিল ইতিবাচক এবং সেখানে ঐক্যের মনোভাবই বেশি ছিল। তার ভাষায়, বৈঠকে ‘অনেক ভালোবাসা’ এবং ‘অনেক ঐক্য’ দেখা গেছে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া একাধিক নেতার সঙ্গে তার আলোচনাও ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে বলে জানা যায়।
ইউক্রেনকে সহায়তার আশ্বাস
সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। আগের বছরের তুলনায় এবার তাদের বৈঠকের পরিবেশ ছিল অনেক বেশি সৌহার্দ্যপূর্ণ।
বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স দিতে প্রস্তুত। এতে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ন্যাটোতে থাকার বার্তা
সম্মেলন-সংশ্লিষ্ট আলোচনায় ট্রাম্প ন্যাটো জোটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বজায় রাখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। শুরুতে কঠোর সমালোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত তার বক্তব্যে সহযোগিতা ও জোটের প্রতি অঙ্গীকারের বার্তাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে উত্তেজনাপূর্ণ সূচনার পর সম্মেলনটি শেষ হয়েছে তুলনামূলক ইতিবাচক আবহে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















