০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
তেল শোধনাগারের বাড়তি লাভের শেষ কোথায়? প্রতিরক্ষায় বেশি ব্যয় করলেই কি ইউরোপের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে? রাশিয়ার জ্বালানি দুর্বলতা, শেয়ারবাজারের বাস্তবতা এবং ইউরোপের আত্মবিশ্বাসের সংকট চীনের দক্ষিণে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৩৯, পূর্ব উপকূলে ধেয়ে আসছে নতুন টাইফুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান: চিপের সাফল্যকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক শক্তিতে বদলাবে  সংযোজন সময়ের নাটকীয় জয়ের পর বিতর্ক, আর্জেন্টিনাকে পক্ষপাতের অভিযোগ নাকচ করল ফিফা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘পরিবার নিশ্চিহ্নের’ অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সংঘাত, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা হামলার পর কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা আঘাত হরমুজ ঘিরে যুদ্ধের নতুন মোড়: ইরানে ফের মার্কিন হামলা, উপসাগজে পাল্টা আঘাতে বাড়ছে উত্তেজনা জোকোভিচের পাঁচ ঘণ্টার মহারণ, সেমিফাইনালে সিনারের মুখোমুখি

প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ১০-এ আমিরাত, ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড

সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৫ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে নতুন ইতিহাস গড়েছে। দেশটি বছরে মোট ১৭৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন দিরহাম বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, যা টানা চতুর্থ বছরের মতো সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই সাফল্যের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বে নবম অবস্থানে উঠে এসেছে আমিরাত।

দেশটির নেতৃত্ব বলছে, এটি শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। ২০৩১ সালের মধ্যে মোট বিদেশি বিনিয়োগের মজুত ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করা এবং প্রতি বছর ২৪০ বিলিয়ন দিরহাম নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে দেশটিতে মোট বিদেশি বিনিয়োগের মজুত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন দিরহাম।

টানা প্রবৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমিরাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ গড়ে বছরে ২৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। সরকারের ধারাবাহিক নীতি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের মতে, দেশের অর্থনৈতিক সূচকের এই উন্নতি ভবিষ্যতের আরও বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের ভিত্তি তৈরি করেছে।

Saudi Arabia tops GCC projects market in Q2: Kamco Invest | Arab News PK

নতুন প্রকল্পে ৬৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান

বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে নতুন শিল্প ও অবকাঠামোভিত্তিক প্রকল্পে। ২০২৫ সালে এ ধরনের ১ হাজার ৫৬২টি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে মোট মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ১২৫ দশমিক ২ বিলিয়ন দিরহাম।

এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৫ হাজারেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ব্যবসায়িক সেবা, সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি, মোটরগাড়ি উৎপাদন, আর্থিক সেবা এবং যোগাযোগ খাতে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে জোর

নতুন বিনিয়োগের মধ্যে উৎপাদন খাতের অংশ ছিল ৩০ শতাংশ। যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে, যার অংশ ২৯ শতাংশ। পাশাপাশি আবাসন খাতেও বিনিয়োগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক দক্ষ জনশক্তি ও সম্পদ স্থানান্তরের কারণে দেশটির আবাসন বাজার আরও শক্তিশালী হয়েছে।

Private capital investment across growth markets rose 28pc in Q3 -  Alternative Credit Investor

একই সময়ে নতুন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের পরিবেশও আরও পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগ চুক্তির গড় আকার আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন দিরহামে পৌঁছেছে, যা ব্যবসাগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে আমিরাত

২০২৫ সালে তিন বছর পর বৈশ্বিক বিদেশি বিনিয়োগ আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। তবে এই বিনিয়োগ সীমিত সংখ্যক দেশ ও বড় প্রকল্পে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

এ সময় নতুন প্রকল্পভিত্তিক মূলধনী বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে ছিল। অঞ্চলটির মোট প্রবৃদ্ধির ৩৮ শতাংশই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা দেশটির আঞ্চলিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধারাবাহিক নীতিগত স্থিতিশীলতা, উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভবিষ্যতেও আমিরাতের প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেল শোধনাগারের বাড়তি লাভের শেষ কোথায়?

প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ১০-এ আমিরাত, ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগে নতুন রেকর্ড

০৩:১২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৫ সালে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগে নতুন ইতিহাস গড়েছে। দেশটি বছরে মোট ১৭৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন দিরহাম বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে, যা টানা চতুর্থ বছরের মতো সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই সাফল্যের ফলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বে নবম অবস্থানে উঠে এসেছে আমিরাত।

দেশটির নেতৃত্ব বলছে, এটি শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগবান্ধব নীতি এবং আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন। ২০৩১ সালের মধ্যে মোট বিদেশি বিনিয়োগের মজুত ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন দিরহামে উন্নীত করা এবং প্রতি বছর ২৪০ বিলিয়ন দিরহাম নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষে দেশটিতে মোট বিদেশি বিনিয়োগের মজুত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ১৭ ট্রিলিয়ন দিরহাম।

টানা প্রবৃদ্ধিতে নতুন মাইলফলক

২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আমিরাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ গড়ে বছরে ২৪ শতাংশ হারে বেড়েছে। সরকারের ধারাবাহিক নীতি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সরকারের মতে, দেশের অর্থনৈতিক সূচকের এই উন্নতি ভবিষ্যতের আরও বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের ভিত্তি তৈরি করেছে।

Saudi Arabia tops GCC projects market in Q2: Kamco Invest | Arab News PK

নতুন প্রকল্পে ৬৫ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান

বিদেশি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে নতুন শিল্প ও অবকাঠামোভিত্তিক প্রকল্পে। ২০২৫ সালে এ ধরনের ১ হাজার ৫৬২টি নতুন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে মোট মূলধনী বিনিয়োগের পরিমাণ ১২৫ দশমিক ২ বিলিয়ন দিরহাম।

এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ৬৫ হাজারেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন, গুদামজাতকরণ, ব্যবসায়িক সেবা, সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি, মোটরগাড়ি উৎপাদন, আর্থিক সেবা এবং যোগাযোগ খাতে কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে জোর

নতুন বিনিয়োগের মধ্যে উৎপাদন খাতের অংশ ছিল ৩০ শতাংশ। যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে, যার অংশ ২৯ শতাংশ। পাশাপাশি আবাসন খাতেও বিনিয়োগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক দক্ষ জনশক্তি ও সম্পদ স্থানান্তরের কারণে দেশটির আবাসন বাজার আরও শক্তিশালী হয়েছে।

Private capital investment across growth markets rose 28pc in Q3 -  Alternative Credit Investor

একই সময়ে নতুন উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানের পরিবেশও আরও পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগ চুক্তির গড় আকার আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন দিরহামে পৌঁছেছে, যা ব্যবসাগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের নেতৃত্বে আমিরাত

২০২৫ সালে তিন বছর পর বৈশ্বিক বিদেশি বিনিয়োগ আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। তবে এই বিনিয়োগ সীমিত সংখ্যক দেশ ও বড় প্রকল্পে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

এ সময় নতুন প্রকল্পভিত্তিক মূলধনী বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে ছিল। অঞ্চলটির মোট প্রবৃদ্ধির ৩৮ শতাংশই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, যা দেশটির আঞ্চলিক নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধারাবাহিক নীতিগত স্থিতিশীলতা, উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভবিষ্যতেও আমিরাতের প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।