বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন সাধারণ মানুষ রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গুজব ছড়ানোর পর উত্তেজনা
পুলিশ জানায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রামের ২৪ বছর বয়সী রিয়াজ ফকিরকে বুধবার সন্ধ্যায় একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। হেফাজতে থাকার সময় তিনি বারবার নিজের মাথায় আঘাত করেন এবং পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পুলিশের দাবি।
রাত প্রায় ১১টার দিকে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় এসে হামলা চালায় বলে জানায় পুলিশ।
আহত পুলিশ ও সাধারণ মানুষ
হামলায় সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিম গুরুতর আহত হন। তাকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফারহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান আহত হন।
সংঘর্ষে আহত সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছেন রিয়াজের মা নাসরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) এবং মমতাজ বেগম (৪৭)। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজন আহতকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ ও পরিবারের ভিন্ন দাবি
রিয়াজের পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে মারধর করেছে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পুলিশের দাবি, থানার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে রিয়াজ নিজেই লকআপের ভেতরে নিজের মাথায় আঘাত করেছিলেন।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, থানায় হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হেফাজতে থাকা ব্যক্তির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর হামলার ঘটনায় ১২ জন আহত হন। পুলিশ ও পরিবারের দাবিতে দেখা দিয়েছে ভিন্নতা।
#বরিশাল #আগৈলঝাড়া #থানায়_হামলা #পুলিশ #বাংলাদেশ #আইনশৃঙ্খলা #হেফাজত #UNB
Sarakhon Report 


















