০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মরক্কোর বিশ্বকাপ যাত্রার আবারও ইতি টানল ফ্রান্স

বিশ্বকাপে আবারও মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গের কারণ হলো ফ্রান্স। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে ফরাসিদের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে মরক্কোকে। চার বছর আগে সেমিফাইনালে একই ব্যবধানে হারের পর এবার বৃহস্পতিবার জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালেও একই পরিণতি বরণ করেছে আটলাস লায়ন্স।

পুরো ম্যাচে আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মরক্কো। তারা লক্ষ্যভেদী মাত্র একটি শট নিতে সক্ষম হয়, সেটিও আসে ম্যাচের ৮২তম মিনিটে, যখন দলটি ইতোমধ্যে দুই গোলে পিছিয়ে।

এ যেন কাতার বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি। সেবার ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা প্রথম আফ্রিকান দল হলেও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কাছেই থেমে যায় মরক্কোর যাত্রা।

মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি দোভাষীর মাধ্যমে বলেন, “আমরা যদি এভাবেই এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ অবশ্যই উজ্জ্বল হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আজ আমরা জিততে চাইনি। অবশ্যই আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রতিপক্ষ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। পরাজয় অবশ্যই হতাশাজনক, তবে ভবিষ্যতের জন্য আমরা কাজ চালিয়ে যাব।”

মরক্কোর সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে মিডফিল্ডার আজেদ্দিন উনাহির শটে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো প্রচেষ্টা দারুণ ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। সেই সেভের মধ্য দিয়েই কার্যত মরক্কোর প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ হয়ে যায়।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, “তাদের দলে এমন কোনো ফরোয়ার্ড ছিল না, যারা দুই প্রান্ত দিয়ে গতির সাহায্যে আমাদের চাপে ফেলতে পারত। আমরা বলের দখল ধরে রেখেছিলাম এবং তারা আমাদের জন্য তেমন কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি।”

এবারের বিশ্বকাপে মরক্কো শক্তিশালী দল গড়ার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা দলে নিয়েছিল ১৮ বছর বয়সী প্রতিভাবান ফুটবলার আইয়ুব বুয়াদ্দিকে, যিনি চাইলে ফ্রান্সের যুব দলেই খেলতে পারতেন। প্যারিসের উত্তরে সেনলিস শহরে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের প্রতিনিধিত্ব করার পর শেষ পর্যন্ত মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

ওয়াহবি বলেন, “আমরা জানি, আমরা শুধু একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি না। আমরা মরক্কোর মানুষের পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার বহু মানুষেরও প্রতিনিধিত্ব করছি। অনেকেই এই দলের মধ্যে নিজেদের স্বপ্ন খুঁজে পান। ভবিষ্যতে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ চালিয়ে যাব।”

প্রথমার্ধে মরক্কোর সেরা সুযোগটি আসে বিরতির ঠিক আগে। আক্রাফ হাকিমি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া একটি ফ্রি-কিক ডান পোস্টের অল্প বাইরে দিয়ে পাঠান।

ম্যাচের প্রথমার্ধের মূল্যায়নে ওয়াহবি বলেন, “প্রথমার্ধ ছিল অত্যন্ত কঠিন। ফ্রান্স বল নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ ছিল। দুই প্রান্ত এবং মাঝমাঠ—উভয় জায়গাতেই তারা আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। আমরা যখন বলের দখল পেয়েছি, তখন দ্রুত আক্রমণে রূপান্তর করতে পারিনি। ফলে আমাদের বেশি দৌড়াতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মরক্কোর বিশ্বকাপ যাত্রার আবারও ইতি টানল ফ্রান্স

০৯:৫৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে আবারও মরক্কোর স্বপ্নভঙ্গের কারণ হলো ফ্রান্স। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে ফরাসিদের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে মরক্কোকে। চার বছর আগে সেমিফাইনালে একই ব্যবধানে হারের পর এবার বৃহস্পতিবার জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালেও একই পরিণতি বরণ করেছে আটলাস লায়ন্স।

পুরো ম্যাচে আক্রমণে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি মরক্কো। তারা লক্ষ্যভেদী মাত্র একটি শট নিতে সক্ষম হয়, সেটিও আসে ম্যাচের ৮২তম মিনিটে, যখন দলটি ইতোমধ্যে দুই গোলে পিছিয়ে।

এ যেন কাতার বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি। সেবার ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা প্রথম আফ্রিকান দল হলেও শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কাছেই থেমে যায় মরক্কোর যাত্রা।

মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি দোভাষীর মাধ্যমে বলেন, “আমরা যদি এভাবেই এগিয়ে যেতে পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ অবশ্যই উজ্জ্বল হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আজ আমরা জিততে চাইনি। অবশ্যই আমরা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছিলাম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু প্রতিপক্ষ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। পরাজয় অবশ্যই হতাশাজনক, তবে ভবিষ্যতের জন্য আমরা কাজ চালিয়ে যাব।”

মরক্কোর সবচেয়ে বড় সুযোগটি আসে মিডফিল্ডার আজেদ্দিন উনাহির শটে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো প্রচেষ্টা দারুণ ডাইভ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেনিয়াঁ। সেই সেভের মধ্য দিয়েই কার্যত মরক্কোর প্রত্যাবর্তনের আশা শেষ হয়ে যায়।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, “তাদের দলে এমন কোনো ফরোয়ার্ড ছিল না, যারা দুই প্রান্ত দিয়ে গতির সাহায্যে আমাদের চাপে ফেলতে পারত। আমরা বলের দখল ধরে রেখেছিলাম এবং তারা আমাদের জন্য তেমন কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি।”

এবারের বিশ্বকাপে মরক্কো শক্তিশালী দল গড়ার জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা দলে নিয়েছিল ১৮ বছর বয়সী প্রতিভাবান ফুটবলার আইয়ুব বুয়াদ্দিকে, যিনি চাইলে ফ্রান্সের যুব দলেই খেলতে পারতেন। প্যারিসের উত্তরে সেনলিস শহরে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের প্রতিনিধিত্ব করার পর শেষ পর্যন্ত মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

ওয়াহবি বলেন, “আমরা জানি, আমরা শুধু একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি না। আমরা মরক্কোর মানুষের পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার বহু মানুষেরও প্রতিনিধিত্ব করছি। অনেকেই এই দলের মধ্যে নিজেদের স্বপ্ন খুঁজে পান। ভবিষ্যতে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ চালিয়ে যাব।”

প্রথমার্ধে মরক্কোর সেরা সুযোগটি আসে বিরতির ঠিক আগে। আক্রাফ হাকিমি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া একটি ফ্রি-কিক ডান পোস্টের অল্প বাইরে দিয়ে পাঠান।

ম্যাচের প্রথমার্ধের মূল্যায়নে ওয়াহবি বলেন, “প্রথমার্ধ ছিল অত্যন্ত কঠিন। ফ্রান্স বল নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ ছিল। দুই প্রান্ত এবং মাঝমাঠ—উভয় জায়গাতেই তারা আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। আমরা যখন বলের দখল পেয়েছি, তখন দ্রুত আক্রমণে রূপান্তর করতে পারিনি। ফলে আমাদের বেশি দৌড়াতে হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছে।”