০৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের স্বস্তির জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫; ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটেছে: রুমিন ফারহানা পুঁজির বিশাল স্রোতে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি, বাড়ছে নতুন ঝুঁকি রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির নতুন পরিকল্পনা: পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বপ্ন অপরাধের দায়ে শিশুদের বিচার: বয়স কমানোর প্রবণতা কি নতুন সংকট ডেকে আনছে? বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রি করছে ফিফা, এক টুকরার দাম প্রায় ৪৫০ ডলার খামেনির পর ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র: যুদ্ধের পথে তেহরান, নাকি কূটনীতির শেষ সুযোগ? নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাঠই কি হতে পারে সমাধান? ভোলার এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সংঘর্ষ, কলেজে ভাঙচুর; আহত অন্তত ৭

ভোলার এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সংঘর্ষ, কলেজে ভাঙচুর; আহত অন্তত ৭

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও কয়েকজন শিক্ষকসহ অন্তত ৫ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি শনিবার চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে ঘটে, যেখানে আইসিটি বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

পরীক্ষা শেষে উত্তেজনা

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, এদিন আইসিটি পরীক্ষায় মোট ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন।

একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন এবং কলেজ চত্বরে ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে উত্তর-পশ্চিম পাশের দুটি ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের জানালার কাচসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায়। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের হস্তক্ষেপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সহায়তায় পরীক্ষার উত্তরপত্র নিরাপদে ডাকঘরে পাঠানো হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিটি পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়েন। পাশাপাশি, পরীক্ষার সময় দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি বলেও তাদের অভিযোগ। এসব অভিযোগের জেরেই পরীক্ষা শেষে তারা বিক্ষোভে নামেন এবং কলেজের দুটি ফটক ও একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান।

প্রশাসনের বক্তব্য

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ আল ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তারা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।

ভোলার চরফ্যাশনের একটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে আইসিটি পরীক্ষা শেষে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অন্তত ৭ জন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের স্বস্তির জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা

ভোলার এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সংঘর্ষ, কলেজে ভাঙচুর; আহত অন্তত ৭

০৭:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও কয়েকজন শিক্ষকসহ অন্তত ৫ থেকে ৭ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি শনিবার চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজে ঘটে, যেখানে আইসিটি বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

পরীক্ষা শেষে উত্তেজনা

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, এদিন আইসিটি পরীক্ষায় মোট ৮৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থী কলেজের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন।

একপর্যায়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন এবং কলেজ চত্বরে ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে উত্তর-পশ্চিম পাশের দুটি ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের জানালার কাচসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায়। এতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশের হস্তক্ষেপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রশাসনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরও জানান, ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সহায়তায় পরীক্ষার উত্তরপত্র নিরাপদে ডাকঘরে পাঠানো হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইসিটি পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় অনেক পরীক্ষার্থী হতাশ হয়ে পড়েন। পাশাপাশি, পরীক্ষার সময় দায়িত্বরত শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি বলেও তাদের অভিযোগ। এসব অভিযোগের জেরেই পরীক্ষা শেষে তারা বিক্ষোভে নামেন এবং কলেজের দুটি ফটক ও একাডেমিক ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান।

প্রশাসনের বক্তব্য

চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ আল ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর তারা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।

ভোলার চরফ্যাশনের একটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে আইসিটি পরীক্ষা শেষে ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনায় আহত অন্তত ৭ জন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।