০৯:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশের স্বস্তির জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫; ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটেছে: রুমিন ফারহানা পুঁজির বিশাল স্রোতে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি, বাড়ছে নতুন ঝুঁকি রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির নতুন পরিকল্পনা: পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বপ্ন অপরাধের দায়ে শিশুদের বিচার: বয়স কমানোর প্রবণতা কি নতুন সংকট ডেকে আনছে? বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রি করছে ফিফা, এক টুকরার দাম প্রায় ৪৫০ ডলার খামেনির পর ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র: যুদ্ধের পথে তেহরান, নাকি কূটনীতির শেষ সুযোগ? নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাঠই কি হতে পারে সমাধান? ভোলার এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সংঘর্ষ, কলেজে ভাঙচুর; আহত অন্তত ৭

নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাঠই কি হতে পারে সমাধান?

বাড়িঘর নির্মাণে কাঠের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ১০৬ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো টেকসইভাবে কাঠের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

জুন মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্থপতি, প্রকৌশলী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা বার্ষিক ফুটপ্রিন্ট প্লাস সম্পত্তি সম্মেলনে একত্রিত হন। সেখানে ব্রিটিশ নির্মাণশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। তাপ নেটওয়ার্ক, কংক্রিটকে আরও কম-কার্বন করার নতুন প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণপদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন উপস্থাপনার পাশাপাশি আলোচনার বড় একটি অংশজুড়ে ছিল একটি পরিচিত নির্মাণসামগ্রী—কাঠ।

টিম্বার ডেভেলপমেন্ট ইউকে-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড হপকিন্স বলেন, “কাঠের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। নির্মাণ খাতকে কার্বনমুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এতে কোনো অতিরঞ্জন নেই।”

গত বছর প্রকাশিত পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ-এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান শহুরে জনসংখ্যার জন্য মাঝারি উচ্চতার কাঠের আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হলে ২১০০ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ১০৬ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

টেকসই কাঠের জোগানই বড় চ্যালেঞ্জ

এডিনবরা নেপিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর উড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এর গবেষক মার্লেন ক্র্যামারও মনে করেন, নেট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনে কাঠের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বৈশ্বিক পর্যায়ে টেকসইভাবে কাঠের সরবরাহ নিশ্চিত করা।”

এই লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা ইংল্যান্ডের শক্ত কাঠের গাছ—যেমন ওক, বিচ ও সুইট চেস্টনাট—নির্মাণকাজে কতটা উপযোগী, তা নিয়ে গবেষণা করছেন। ব্রিটেনের বনভূমির কাঠ দিয়ে নির্মাণ নামে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বন কমিশন

নিজের কাঠ পুড়িয়ে ফেলছে যুক্তরাজ্য

প্রথম নজরে মনে হতে পারে, দেশীয় কাঠ উৎপাদন বাড়ানো বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিন্তু ক্র্যামারের মতে, বাস্তবতা ভিন্ন।

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ টন শক্ত কাঠ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নির্মাণকাজে ব্যবহার না করে এর বড় অংশই জ্বালানি হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সংগৃহীত শক্ত কাঠের প্রায় ৮৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি জীবজ্বালানি-ভিত্তিক তাপ উৎপাদনের জন্য প্রতিবছর আরও ৭৫ লাখ টন কাঠের দানা জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

ক্র্যামারের প্রশ্ন, “আমরা কেন নতুন কাটা কাঠ পুড়িয়ে ফেলছি? কারণ, শক্ত কাঠ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হয়, সে বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট জ্ঞান নেই। ফলে নিজেদের সম্পদও দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারছি না।”

Can building with wood decarbonise construction?

দেশীয় শক্ত কাঠ নিয়ে গবেষণার অভাব

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত অধিকাংশ কাঠ আসে নরম কাঠের গাছ—যেমন স্প্রুস, পাইন ও লার্চ—থেকে। এসব গাছ দ্রুত বাড়ে, লম্বা ও সোজা হয় এবং তুলনামূলক বেশি কাঠ দেয়।

অন্যদিকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত শক্ত কাঠের বড় অংশই এস্তোনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়। ১৭০০-এর দশক থেকেই যুক্তরাজ্য এসব দেশের ওপর নির্ভরশীল। এর পেছনে রয়েছে ১৬০০-এর দশকে নিজেদের বনভূমি নিঃশেষ হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর বনসম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।

ক্র্যামারের মতে, ব্রিটিশ শক্ত কাঠ নির্মাণে কতটা কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত খুব কম গবেষণা হয়েছে।

তিনি বলেন, “অনেকে বলেন, যুক্তরাজ্যের কাঠ নির্মাণের জন্য যথেষ্ট ভালো নয়। এটা একেবারেই সত্য নয়।”

বর্তমানে তাঁর গবেষণা দল যুক্তরাজ্যের ছয়টি দেশীয় গাছের কাঠের শক্তি, দৃঢ়তা ও ঘনত্ব পরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে আরেকটি দল খতিয়ে দেখছে, কোন ধরনের কাঠ দিয়ে কোন ধরনের নির্মাণসামগ্রী তৈরি করা সবচেয়ে উপযোগী হবে।

লক্ষ্য: কম-কার্বন নির্মাণ ও আমদানিনির্ভরতা কমানো

এই গবেষণার মূল লক্ষ্য শুধু কংক্রিট ও ইস্পাতের কম-কার্বন বিকল্প তৈরি করা নয়, বরং নির্মাণসামগ্রীর জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানো।

বন কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পর বর্তমানে যুক্তরাজ্যই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নিট কাঠ আমদানিকারক দেশ।

এ পরিস্থিতিকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেন ক্র্যামার। তাঁর ভাষায়, “যদি বিশ্বের প্রতিটি দেশ যুক্তরাজ্যের মতো এত বিপুল পরিমাণ কাঠ আমদানি করতে শুরু করে, তাহলে সেই কাঠ আসবে কোথা থেকে?”

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের স্বস্তির জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা

নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাঠই কি হতে পারে সমাধান?

০৭:৫১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বাড়িঘর নির্মাণে কাঠের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ১০৬ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব হতে পারে। তবে এর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো টেকসইভাবে কাঠের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

জুন মাসে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্থপতি, প্রকৌশলী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা বার্ষিক ফুটপ্রিন্ট প্লাস সম্পত্তি সম্মেলনে একত্রিত হন। সেখানে ব্রিটিশ নির্মাণশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। তাপ নেটওয়ার্ক, কংক্রিটকে আরও কম-কার্বন করার নতুন প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণপদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন উপস্থাপনার পাশাপাশি আলোচনার বড় একটি অংশজুড়ে ছিল একটি পরিচিত নির্মাণসামগ্রী—কাঠ।

টিম্বার ডেভেলপমেন্ট ইউকে-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড হপকিন্স বলেন, “কাঠের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। নির্মাণ খাতকে কার্বনমুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এতে কোনো অতিরঞ্জন নেই।”

গত বছর প্রকাশিত পটসডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চ-এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান শহুরে জনসংখ্যার জন্য মাঝারি উচ্চতার কাঠের আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হলে ২১০০ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ১০৬ গিগাটন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

টেকসই কাঠের জোগানই বড় চ্যালেঞ্জ

এডিনবরা নেপিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর উড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এর গবেষক মার্লেন ক্র্যামারও মনে করেন, নেট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জনে কাঠের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বৈশ্বিক পর্যায়ে টেকসইভাবে কাঠের সরবরাহ নিশ্চিত করা।”

এই লক্ষ্য সামনে রেখে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা ইংল্যান্ডের শক্ত কাঠের গাছ—যেমন ওক, বিচ ও সুইট চেস্টনাট—নির্মাণকাজে কতটা উপযোগী, তা নিয়ে গবেষণা করছেন। ব্রিটেনের বনভূমির কাঠ দিয়ে নির্মাণ নামে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বন কমিশন

নিজের কাঠ পুড়িয়ে ফেলছে যুক্তরাজ্য

প্রথম নজরে মনে হতে পারে, দেশীয় কাঠ উৎপাদন বাড়ানো বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিন্তু ক্র্যামারের মতে, বাস্তবতা ভিন্ন।

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ টন শক্ত কাঠ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নির্মাণকাজে ব্যবহার না করে এর বড় অংশই জ্বালানি হিসেবে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সংগৃহীত শক্ত কাঠের প্রায় ৮৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি জীবজ্বালানি-ভিত্তিক তাপ উৎপাদনের জন্য প্রতিবছর আরও ৭৫ লাখ টন কাঠের দানা জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

ক্র্যামারের প্রশ্ন, “আমরা কেন নতুন কাটা কাঠ পুড়িয়ে ফেলছি? কারণ, শক্ত কাঠ কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হয়, সে বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট জ্ঞান নেই। ফলে নিজেদের সম্পদও দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারছি না।”

Can building with wood decarbonise construction?

দেশীয় শক্ত কাঠ নিয়ে গবেষণার অভাব

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত অধিকাংশ কাঠ আসে নরম কাঠের গাছ—যেমন স্প্রুস, পাইন ও লার্চ—থেকে। এসব গাছ দ্রুত বাড়ে, লম্বা ও সোজা হয় এবং তুলনামূলক বেশি কাঠ দেয়।

অন্যদিকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত শক্ত কাঠের বড় অংশই এস্তোনিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়। ১৭০০-এর দশক থেকেই যুক্তরাজ্য এসব দেশের ওপর নির্ভরশীল। এর পেছনে রয়েছে ১৬০০-এর দশকে নিজেদের বনভূমি নিঃশেষ হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর বনসম্পদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।

ক্র্যামারের মতে, ব্রিটিশ শক্ত কাঠ নির্মাণে কতটা কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত খুব কম গবেষণা হয়েছে।

তিনি বলেন, “অনেকে বলেন, যুক্তরাজ্যের কাঠ নির্মাণের জন্য যথেষ্ট ভালো নয়। এটা একেবারেই সত্য নয়।”

বর্তমানে তাঁর গবেষণা দল যুক্তরাজ্যের ছয়টি দেশীয় গাছের কাঠের শক্তি, দৃঢ়তা ও ঘনত্ব পরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে আরেকটি দল খতিয়ে দেখছে, কোন ধরনের কাঠ দিয়ে কোন ধরনের নির্মাণসামগ্রী তৈরি করা সবচেয়ে উপযোগী হবে।

লক্ষ্য: কম-কার্বন নির্মাণ ও আমদানিনির্ভরতা কমানো

এই গবেষণার মূল লক্ষ্য শুধু কংক্রিট ও ইস্পাতের কম-কার্বন বিকল্প তৈরি করা নয়, বরং নির্মাণসামগ্রীর জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতাও কমানো।

বন কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের পর বর্তমানে যুক্তরাজ্যই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নিট কাঠ আমদানিকারক দেশ।

এ পরিস্থিতিকে “অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেন ক্র্যামার। তাঁর ভাষায়, “যদি বিশ্বের প্রতিটি দেশ যুক্তরাজ্যের মতো এত বিপুল পরিমাণ কাঠ আমদানি করতে শুরু করে, তাহলে সেই কাঠ আসবে কোথা থেকে?”