০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এর মতামতঃ   প্রধানমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা শুরু হয় ক্ষমতায় বসার পর বাংলাদেশের স্বস্তির জয়, জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো টাইগাররা ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫; ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল বাস ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটেছে: রুমিন ফারহানা পুঁজির বিশাল স্রোতে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি, বাড়ছে নতুন ঝুঁকি রাশিয়ার সবচেয়ে ধনী শিল্পপতির নতুন পরিকল্পনা: পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের স্বপ্ন অপরাধের দায়ে শিশুদের বিচার: বয়স কমানোর প্রবণতা কি নতুন সংকট ডেকে আনছে? বিশ্বকাপ ফাইনালের মাঠের ঘাস বিক্রি করছে ফিফা, এক টুকরার দাম প্রায় ৪৫০ ডলার খামেনির পর ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র: যুদ্ধের পথে তেহরান, নাকি কূটনীতির শেষ সুযোগ? নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাঠই কি হতে পারে সমাধান?

খামেনির পর ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র: যুদ্ধের পথে তেহরান, নাকি কূটনীতির শেষ সুযোগ?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুধু শোকের অনুষ্ঠান ছিল না, বরং তা নতুন নেতৃত্বের শক্তি প্রদর্শন, জাতীয়তাবাদী বার্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে দেখা গেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

শেষকৃত্যে শক্তি প্রদর্শনের বার্তা

খামেনির শেষকৃত্যে লাখো মানুষের উপস্থিতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছে। অনুষ্ঠান চলাকালেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। তাদের অভিযোগ, জাহাজগুলো নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করেনি।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে সামরিক হামলা চালায় এবং তেল রপ্তানিসংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা ছাড়ও বাতিল করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তবে একই সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

নতুন নেতৃত্বে সামরিক প্রভাব বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সামরিক নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকেছে। শেষকৃত্যের আয়োজনেও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। ধর্মীয় নেতৃত্বের ঐতিহ্যগত উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে আড়ালে চলে যায়।

খামেনির উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার একশ দিনেরও বেশি সময় পরও জনসমক্ষে খুব কমই এসেছেন। তার প্রকাশিত বক্তব্যগুলোও ধর্মীয় ভাষণের বদলে সামরিক বার্তার মতো শোনাচ্ছে। এতে ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ইরানের নীতিনির্ধারণে সামরিক বাহিনীর ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Iran Isn't Just Eulogizing a Leader. It's Sending a Message. - WSJ

আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নতুন কৌশল

খামেনির শেষকৃত্যের অংশ হিসেবে ইরাকের বিভিন্ন পবিত্র শহরেও অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু শোকানুষ্ঠান নয়, বরং আঞ্চলিক প্রভাব প্রদর্শনের একটি রাজনৈতিক কৌশলও ছিল।

একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ সমবেদনা জানাতে প্রতিনিধি পাঠালেও পরে আবারও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর আরও বেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

যুদ্ধের ঝুঁকি, নাকি আলোচনার সুযোগ?

সাম্প্রতিক সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে উভয় পক্ষই এখন শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনায় যেতে চাইছে। ফলে সমঝোতার পথ আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতাও ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং শিল্প খাতের দুর্বলতা সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে শেষ পর্যন্ত তেহরানকে কোনো না কোনো ধরনের সমঝোতার পথেই ফিরতে হতে পারে।

ভবিষ্যতের ইরান কোন পথে?

খামেনির মৃত্যুর পর ইরান এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জাতীয়তাবাদ, সামরিক নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ দেশটিকে বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। তাই আগামী মাসগুলোই নির্ধারণ করবে, ইরান নতুন সংঘাতের পথে এগোবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করবে।

ইরানে খামেনির মৃত্যুর পর নতুন ক্ষমতার কাঠামো, সামরিক নেতৃত্বের উত্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা এবং ভবিষ্যৎ কূটনীতির সম্ভাবনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এর মতামতঃ   প্রধানমন্ত্রীর আসল পরীক্ষা শুরু হয় ক্ষমতায় বসার পর

খামেনির পর ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্র: যুদ্ধের পথে তেহরান, নাকি কূটনীতির শেষ সুযোগ?

০৮:১৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুধু শোকের অনুষ্ঠান ছিল না, বরং তা নতুন নেতৃত্বের শক্তি প্রদর্শন, জাতীয়তাবাদী বার্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কঠোর অবস্থানের প্রকাশ হিসেবে দেখা গেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট

শেষকৃত্যে শক্তি প্রদর্শনের বার্তা

খামেনির শেষকৃত্যে লাখো মানুষের উপস্থিতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, প্রতিশোধের প্রতীক লাল পতাকা এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছে। অনুষ্ঠান চলাকালেই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। তাদের অভিযোগ, জাহাজগুলো নির্ধারিত নৌপথ অনুসরণ করেনি।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন করে সামরিক হামলা চালায় এবং তেল রপ্তানিসংক্রান্ত একটি নিষেধাজ্ঞা ছাড়ও বাতিল করে। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তবে একই সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়নি।

নতুন নেতৃত্বে সামরিক প্রভাব বাড়ছে

বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্য আগের তুলনায় অনেক বেশি সামরিক নেতৃত্বের দিকে ঝুঁকেছে। শেষকৃত্যের আয়োজনেও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি। ধর্মীয় নেতৃত্বের ঐতিহ্যগত উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে আড়ালে চলে যায়।

খামেনির উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার একশ দিনেরও বেশি সময় পরও জনসমক্ষে খুব কমই এসেছেন। তার প্রকাশিত বক্তব্যগুলোও ধর্মীয় ভাষণের বদলে সামরিক বার্তার মতো শোনাচ্ছে। এতে ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ইরানের নীতিনির্ধারণে সামরিক বাহিনীর ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Iran Isn't Just Eulogizing a Leader. It's Sending a Message. - WSJ

আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নতুন কৌশল

খামেনির শেষকৃত্যের অংশ হিসেবে ইরাকের বিভিন্ন পবিত্র শহরেও অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এতে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু শোকানুষ্ঠান নয়, বরং আঞ্চলিক প্রভাব প্রদর্শনের একটি রাজনৈতিক কৌশলও ছিল।

একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ সমবেদনা জানাতে প্রতিনিধি পাঠালেও পরে আবারও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। হরমুজ প্রণালির ওপর আরও বেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

যুদ্ধের ঝুঁকি, নাকি আলোচনার সুযোগ?

সাম্প্রতিক সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার কারণে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে উভয় পক্ষই এখন শক্ত অবস্থান থেকে আলোচনায় যেতে চাইছে। ফলে সমঝোতার পথ আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক বাস্তবতাও ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং শিল্প খাতের দুর্বলতা সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক চাপ কমাতে শেষ পর্যন্ত তেহরানকে কোনো না কোনো ধরনের সমঝোতার পথেই ফিরতে হতে পারে।

ভবিষ্যতের ইরান কোন পথে?

খামেনির মৃত্যুর পর ইরান এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে জাতীয়তাবাদ, সামরিক নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নীতি আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ দেশটিকে বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকেও ঠেলে দিচ্ছে। তাই আগামী মাসগুলোই নির্ধারণ করবে, ইরান নতুন সংঘাতের পথে এগোবে, নাকি আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করবে।

ইরানে খামেনির মৃত্যুর পর নতুন ক্ষমতার কাঠামো, সামরিক নেতৃত্বের উত্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা এবং ভবিষ্যৎ কূটনীতির সম্ভাবনা।