চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের এক স্থানীয় নেতার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), যা পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত, সেখানে পাঠানো হয়েছে।
আহত ব্যক্তি জাহিন শেখ (৩৯)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবদলের সাবেক সহকারী ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক এবং পৌরসভার হাত কালুগঞ্জ গ্রামের রাজব আলীর ছেলে।
রাতের হামলায় গুরুতর আহত
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা হোমিওপ্যাথি কলেজের কাছে একদল দুর্বৃত্ত জাহিন শেখের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।
হামলায় তার বাম হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

অবস্থার অবনতি, ঢাকায় স্থানান্তর
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জাহিন শেখের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত হয়েছে। তার বাম হাতের কবজি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এছাড়া দুই পায়ের পাতার নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত গভীরভাবে কাটা হয়েছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাকে দ্রুত ঢাকায় নিটোরে পাঠানো হয়।
পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার সন্দেহ
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে শনাক্ত করেছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। একই সঙ্গে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে বলে জানিয়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















