বিশ্বকাপ ফুটবলের বহুল প্রতীক্ষিত ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালকে টুর্নামেন্টের ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ’ ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য সমর্থক সংঘর্ষের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফিফা, এফবিআই এবং আটলান্টা পুলিশ বিভাগের যৌথ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ককে বিবেচনায় রেখে ম্যাচ ঘিরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, মাঠের বাইরের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।
নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ৭৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়ামে। ফিফার টিকিট নীতির কারণে স্টেডিয়ামের অধিকাংশ আসনে বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা একসঙ্গে বসতে পারবেন। তবে দুই দেশের জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া প্রায় ৮ হাজার করে টিকিট স্টেডিয়ামের বিপরীত দুই প্রান্তে রাখা হয়েছে।
সমর্থকদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টেডিয়ামের কাছাকাছি ডাউনটাউন এলাকায় দুই দলের সমর্থকদের জন্য আলাদা বার ও সমাবেশস্থলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে অপ্রয়োজনীয় মুখোমুখি পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ
সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফিফা, এফবিআই এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, আলোচনায় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার অতীত ইতিহাস, বিশেষ করে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠে আসে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ঐতিহাসিক বিষয়টি কিছু সমর্থকের মধ্যে উত্তেজনার কারণ হতে পারে।
যদিও চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সমর্থকদের আচরণ নিয়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি, তবুও কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

বাড়ানো হচ্ছে পুলিশি উপস্থিতি
স্টেডিয়ামের ভেতরের কনকোর্স এলাকা, যেখানে খাবার ও পানীয় সংগ্রহের সময় দুই দলের সমর্থকদের মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
এ ছাড়া দুই দলের হোটেলের বাইরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, ম্যাচ উপলক্ষে আটলান্টায় ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার প্রায় ৩০ হাজার করে সমর্থক জড়ো হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শান্ত থাকার আহ্বান
ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্বকাপ চলাকালে সামাজিক মাধ্যমে তার দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের এমন একটি গান গাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ফকল্যান্ডের উল্লেখ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, এটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ। তারা শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে খেলতে নামছেন, কিন্তু এর বাইরে অন্য কোনো অর্থ খোঁজার প্রয়োজন নেই।
একই সুরে কথা বলেছেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও। তার ভাষায়, এটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ, যেখানে দুই দেশের আবেগপ্রবণ সমর্থকেরা উচ্চমানের একটি লড়াই দেখতে আসবেন। ফুটবল মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে এবং দুই জাতিকেই এক মঞ্চে নিয়ে আসে। মাঠের খেলাই শেষ পর্যন্ত সবকিছুর জবাব দেবে।
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালকে ঘিরে তাই মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও এখন সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, সম্ভাব্য সমর্থক সংঘর্ষ এড়াতে পৃথক প্রবেশপথ ও বাড়তি পুলিশ মোতায়েন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















