আধুনিক সময়েও পুরোনো দিনের স্বাদ ও ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি। ১৮ শতকের বেকিং পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি বিশেষ রুটি এখন ইতিহাসপ্রেমী ও খাবারপ্রেমীদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মাটির চুলায় ফিরছে পুরোনো দিনের রুটির স্বাদ
যুক্তরাষ্ট্রের বেকার জাস্টিন চেরি ১৮ শতকের বেকিং কৌশল ধরে রেখে তৈরি করছেন ঐতিহাসিক রুটি। তার বেকারি সাধারণ দোকানের মতো নয়, বরং একটি তাঁবুর ভেতরে তৈরি মাটির চুলায় তিনি রুটি তৈরি করেন। এই চুলার নকশাও নেওয়া হয়েছে কয়েক শতাব্দী আগের পদ্ধতি থেকে।
তিনি ঐতিহাসিক স্থানে গিয়ে প্রাচীন সেনাদের জন্য তৈরি রুটির মতো খাবার প্রস্তুত করেন। তার তৈরি এক পাউন্ড ওজনের রুটি দেখতে যেমন ঐতিহ্যবাহী, তেমনি স্বাদেও বহন করে পুরোনো সময়ের স্মৃতি।
একটি রুটি তৈরিতে লাগে দীর্ঘ সময়
জাস্টিন চেরির রুটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। ময়দা প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে চুলায় বেক করা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ তিনি আগের যুগের নিয়ম মেনে করেন।
তিনি আবহাওয়ার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যান। প্রচণ্ড গরম, ঠান্ডা, বৃষ্টি কিংবা ঝড়—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই তিনি ঐতিহাসিক বেকিং পদ্ধতি ধরে রেখেছেন।

ইতিহাসের সঙ্গে খাবারের মেলবন্ধন
জাস্টিন শুধু রুটি তৈরি করেন না, বরং মানুষের সামনে তুলে ধরেন কয়েক শতাব্দী আগের খাবারের সংস্কৃতি। তার তৈরি পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিশেষ মশলাদার মিষ্টি, স্থানীয় পনির, মাখন ও সংরক্ষিত খাবার।
তার তৈরি বিশেষ মিষ্টি প্রস্তুত করতেও কয়েক দিন সময় লাগে। পুরোনো নকশার ছাঁচ ব্যবহার করে তৈরি এসব খাবার মানুষকে অতীতের স্বাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
পরিবারের সঙ্গে ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা
ব্যস্ত সময়ে জাস্টিনের পরিবারও তাকে সহযোগিতা করে। পরিবারের সদস্যরা পুরোনো সময়ের পোশাক পরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক বেকিংয়ের গল্প তুলে ধরেন।
জাস্টিন ছোটবেলা থেকেই ইতিহাসভিত্তিক আয়োজন ও যুদ্ধের পুনর্নির্মাণ অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নিজের ঐতিহাসিক চুলা তৈরি ও প্রাচীন রুটি তৈরির পথে এগিয়ে দেয়।

পুরোনো উপকরণে নতুন স্বাদের খোঁজ
জাস্টিন স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা শস্য ব্যবহার করেন এবং আগের দিনের মতো প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি খামির ব্যবহার করেন। তার লক্ষ্য হলো, অতীতের মানুষ যেসব উপকরণ ব্যবহার করতেন, সেই একই ধরনের উপকরণ দিয়ে খাবার তৈরি করা।
তার কাজ শুধু একটি ব্যবসা নয়, বরং ইতিহাস সংরক্ষণের একটি উপায়। প্রাচীন দিনের খাবারের স্বাদ মানুষকে অতীতের জীবনযাত্রা সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করছে।
Sarakhon Report 


















