ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নির্দেশে সরকারে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। মঙ্গলবার ইউক্রেনের পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগ অনুমোদন করেছে।
সরকারে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, নতুন চ্যালেঞ্জ ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে দেশের রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গত সপ্তাহেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন নেতৃত্ব আনা হবে। একই সঙ্গে ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কোকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এক বছরের মধ্যেই বিদায়
ইউলিয়া স্বিরিদেঙ্কো ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বিনিয়োগ সহযোগিতা এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন। দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি জানান, নিজের সময়ে তিনি বেশ কয়েকটি বাস্তবধর্মী সাফল্য অর্জন করেছেন।
যুদ্ধের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত
রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের মধ্যে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও তীব্র হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন নিজ দেশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদনের পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নতুন বিন্যাস দেশটির ভবিষ্যৎ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়ে জল্পনা
দেশটির বিভিন্ন মহলে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের প্রধান সেরহি কোরেৎসকির নাম সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তার সঙ্গে বৈঠক করেন এবং জ্বালানি খাতে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন দেশটির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউক্রেনে সরকার পুনর্গঠনের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং যুদ্ধকালীন নীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর থাকবে সবার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















