০২:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিক্ষার্থীদের লংমার্চ ঘিরে সায়েন্সল্যাবে কড়া নিরাপত্তা, পরীক্ষা শেষে বড় জমায়েত হয়নি ককরোচ জনতা পার্টি ও ভারতীয় মুসলমান: সংশয়ের রাজনীতি নাকি নেতৃত্ব গড়ার নতুন সুযোগ? সিলিকন ভ্যালিতে ছয় অঙ্কের বেতনেও স্বস্তি নেই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থানে বাড়ছে জীবনযাত্রার চাপ অবহেলার দীর্ঘ অধ্যায় পেরিয়ে আলোচনায় নরওয়ের শিল্পী আস্তা নরেগার্ড, বিশেষ প্রদর্শনীতে ফিরল প্রাপ্য স্বীকৃতি পাকিস্তানের নতুন বহিষ্কার অভিযানে চাপে আফগান শরণার্থীরা, প্রতিদিন সীমান্ত পেরোচ্ছে শত শত পরিবার ব্রাজিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ বাংলাদেশি, মানব পাচার চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ যুক্তরাজ্যে ‘এখন কিনুন, পরে পরিশোধ করুন’ সেবায় নতুন নিয়ম, বাড়ল গ্রাহক সুরক্ষা চীনে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক মার্কিন বিজ্ঞানী, প্রায় দুই বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের, জ্বালানি রপ্তানি পথ নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা ইউক্রেনে বড় রাজনৈতিক রদবদল, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগে নতুন জল্পনা

চীনে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক মার্কিন বিজ্ঞানী, প্রায় দুই বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই

চীনে পারমাণবিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে কাজ করা একজন মার্কিন বিজ্ঞানীকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে আটক রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। বিষয়টি সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আটক

আটক বিজ্ঞানীর নাম চেন ইউলিন। তার বয়স ৫৪ বছর। পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে বেইজিংয়ে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি চীনা কর্তৃপক্ষের হেফাজতেই রয়েছেন।

তার স্ত্রী রং ইউফাং জানান, দীর্ঘ ৬০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। এতে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বেগে রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার পরিবারের

U.S. seismologist has been detained in China for nearly 2 years with no  trial, his family says

চেন ইউলিন ভূকম্পন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পারমাণবিক পরীক্ষা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রী বলেন, তিনি বহু বছর ধরে চীনের গবেষকদের সঙ্গে স্বচ্ছ ও উন্মুক্তভাবে যৌথ গবেষণা করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে আনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পরিবারের দাবি, আটক অবস্থায় তাকে শতাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রথম ১৩ মাস কোনো আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পাননি।

গবেষণার মূল বিষয় ছিল উত্তর কোরিয়া

চেন ইউলিনের প্রকাশিত গবেষণার বড় অংশই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ নিয়ে। তিনি ভূকম্পন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে পারমাণবিক বিস্ফোরণ শনাক্ত করার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। এসব গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক প্রকল্পেও তিনি অংশ নেন।

তার স্ত্রী বলেন, এসব গবেষণা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ ছিল এবং কোনো গোপনীয় কার্যক্রমের সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল না।

চীনের অবস্থান

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিচারিক কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী মামলাটি পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, বেআইনিভাবে কাউকে আটক রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।

US scientist has been detained in China since 2024, family says | AP News

চীনের আইন অনুযায়ী গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

চেন ইউলিনের পরিবার জানিয়েছে, তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন। তাই নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের সুযোগ না পেলে তার স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তার মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের একাডেমিক সহযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এমনিতেই নানা ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ। এই ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের লংমার্চ ঘিরে সায়েন্সল্যাবে কড়া নিরাপত্তা, পরীক্ষা শেষে বড় জমায়েত হয়নি

চীনে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক মার্কিন বিজ্ঞানী, প্রায় দুই বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই

০১:০২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

চীনে পারমাণবিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে কাজ করা একজন মার্কিন বিজ্ঞানীকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে আটক রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। বিষয়টি সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে আটক

আটক বিজ্ঞানীর নাম চেন ইউলিন। তার বয়স ৫৪ বছর। পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের নভেম্বরে বেইজিংয়ে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি চীনা কর্তৃপক্ষের হেফাজতেই রয়েছেন।

তার স্ত্রী রং ইউফাং জানান, দীর্ঘ ৬০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। এতে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বেগে রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার পরিবারের

U.S. seismologist has been detained in China for nearly 2 years with no  trial, his family says

চেন ইউলিন ভূকম্পন-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পারমাণবিক পরীক্ষা শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তার স্ত্রী বলেন, তিনি বহু বছর ধরে চীনের গবেষকদের সঙ্গে স্বচ্ছ ও উন্মুক্তভাবে যৌথ গবেষণা করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে আনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

পরিবারের দাবি, আটক অবস্থায় তাকে শতাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রথম ১৩ মাস কোনো আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগও পাননি।

গবেষণার মূল বিষয় ছিল উত্তর কোরিয়া

চেন ইউলিনের প্রকাশিত গবেষণার বড় অংশই উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ নিয়ে। তিনি ভূকম্পন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে পারমাণবিক বিস্ফোরণ শনাক্ত করার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন। এসব গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একাধিক প্রকল্পেও তিনি অংশ নেন।

তার স্ত্রী বলেন, এসব গবেষণা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ ছিল এবং কোনো গোপনীয় কার্যক্রমের সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল না।

চীনের অবস্থান

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিচারিক কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী মামলাটি পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, বেআইনিভাবে কাউকে আটক রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।

US scientist has been detained in China since 2024, family says | AP News

চীনের আইন অনুযায়ী গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

চেন ইউলিনের পরিবার জানিয়েছে, তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যায় ভুগছেন। তাই নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের সুযোগ না পেলে তার স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তার মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের একাডেমিক সহযোগিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এমনিতেই নানা ইস্যুতে উত্তেজনাপূর্ণ। এই ঘটনাকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনাও আরও জোরদার হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।