মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের কমান্ড, নিয়ন্ত্রণ, রসদ, জ্বালানি এবং সামরিক সরঞ্জাম-সংক্রান্ত বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তার পাল্টা প্রভাবও পড়তে পারে।
হামলার দাবি ও ইরানের অবস্থান
ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, ভারত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আঞ্চলিক নৌপথে চাপ সৃষ্টি করে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত করার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।
ইরান আরও জানিয়েছে, যদি এই অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য রপ্তানি পথও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাদের ভাষ্য, জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ সবার জন্য থাকবে, না হলে কারও জন্যই থাকবে না।

বাহরাইনে সতর্কতা
এদিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে। বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা
সাম্প্রতিক এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















