রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ নিজেদের আনুষ্ঠানিক মিত্র হিসেবে ঘোষণা না করলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলায় অনেক ক্ষেত্রে একই অবস্থান নিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সম্পর্ক কি সত্যিই সমতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, নাকি এখানে চীনের প্রভাব বেশি?
কৌশলগত অংশীদারত্বে শক্তির ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন
রাশিয়া ও চীন ২০১৯ সাল থেকে নতুন যুগের জন্য “ব্যাপক কৌশলগত সমন্বয় অংশীদার” হিসেবে সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে। রুশ কর্মকর্তারা বারবার এই সম্পর্ককে সমতার ভিত্তিতে তৈরি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।
চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের তুলনায় রাশিয়ার অংশ খুবই সীমিত। ফলে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতার মাত্রা সমান নয় বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
:max_bytes(150000):strip_icc()/GettyImages-126363856-59c67c1aaad52b0011324376.jpg)
ইউক্রেন সংকটের আগে ইউরোপ ছিল রাশিয়ার প্রধান বাজার
২০১৪ সালে ইউক্রেন সংকট শুরুর আগে রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই সময় রাশিয়ার রপ্তানি ও আমদানির বড় অংশই ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
বিশেষ করে জার্মানির সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া থেকে কম দামে প্রাকৃতিক গ্যাস পেয়ে জার্মানির শিল্প ও অর্থনীতি দীর্ঘদিন সুবিধা পেয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা এই জ্বালানি ইউরোপের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
নিষেধাজ্ঞার পর চীনের ওপর রাশিয়ার নির্ভরতা বেড়েছে
ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে রাশিয়াকে নতুন অর্থনৈতিক পথ খুঁজতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

তবে এই ঘনিষ্ঠতার মধ্যেও দুই দেশের অবস্থান এক নয়। চীনের বিশাল অর্থনীতি, বৈশ্বিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তাকে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
ভবিষ্যতে সম্পর্কের ধরন নিয়ে আলোচনা
রাশিয়া ও চীন বর্তমানে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি কতটা সমান, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী হলেও অর্থনৈতিক শক্তির পার্থক্য দুই দেশের সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে, তবে এই অংশীদারত্বে কার প্রভাব বেশি থাকবে, সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















