০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কপিরাইট আইন বদলাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া, প্রযুক্তি কোম্পানি ও সংবাদমাধ্যমের নতুন লড়াই ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস, নির্বাচিত রুবাইয়াত হোসেনের ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড নেটবলের নতুন স্বপ্ন, অলিম্পিকের পথে এগোচ্ছে নারীদের ঐতিহ্যবাহী খেলা হরমুজ প্রণালিতে আটকে ৬ হাজার নাবিক, দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে, বিকল্প উৎসে ঝুঁকছে এশিয়ার শোধনাগারগুলো জাপান-আসিয়ান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়: অনিশ্চিত বিশ্বে অংশীদারত্বের নতুন রূপরেখা অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এফএসআরইউর ত্রুটিতে গ্যাস সংকট, দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহে সরকারের জোর উদ্যোগ গ্যাস লিক থেকে আগুন, সাভারে দগ্ধ দম্পতি আশঙ্কাজনক অবস্থায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবির মুখে নীরবতা, সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের বার্তায় সক্রিয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন, বছরের পর বছর দুর্ভোগে রংপুরের ৫০ হাজার মানুষ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিস্তা নদীর ভাঙনে একটি সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী চলাচলের পথ ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।

সেতু আছে, চলাচলের পথ নেই

স্থানীয়দের ভাষ্য, বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপীদাঙ্গা মৌলভীবাজার এলাকায় ২০১৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তিস্তার বন্যার পানিতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর থেকে সেতুটি যানবাহনের জন্য প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়িসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন।

দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে

স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি কিছুটা কাত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নতুন সেতুর আশায় এলাকাবাসী

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে নকশা তৈরির কাজ চলছে। দরপত্র অনুমোদনের পরই নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্রুত উদ্যোগের অপেক্ষায় মানুষ

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং হাজারো মানুষের কষ্টের অবসান ঘটবে।

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন হওয়ায় ১০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জোরালো।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কপিরাইট আইন বদলাচ্ছে ইন্দোনেশিয়া, প্রযুক্তি কোম্পানি ও সংবাদমাধ্যমের নতুন লড়াই

তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন, বছরের পর বছর দুর্ভোগে রংপুরের ৫০ হাজার মানুষ

০৬:০১:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিস্তা নদীর ভাঙনে একটি সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে যাওয়ায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী চলাচলের পথ ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।

সেতু আছে, চলাচলের পথ নেই

স্থানীয়দের ভাষ্য, বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপীদাঙ্গা মৌলভীবাজার এলাকায় ২০১৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করে। কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই তিস্তার বন্যার পানিতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। এরপর থেকে সেতুটি যানবাহনের জন্য প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়িসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন।

দুর্ঘটনার শঙ্কা বাড়ছে

স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি কিছুটা কাত হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। শুধু আশ্বাস মিলেছে, বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি।

নতুন সেতুর আশায় এলাকাবাসী

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য জানান, অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে। বর্তমানে নকশা তৈরির কাজ চলছে। দরপত্র অনুমোদনের পরই নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দ্রুত উদ্যোগের অপেক্ষায় মানুষ

দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, নতুন সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে এবং হাজারো মানুষের কষ্টের অবসান ঘটবে।

রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তার ভাঙনে সেতুর সংযোগ সড়ক বিলীন হওয়ায় ১০ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জোরালো।