অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকেলে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর মধ্য দিয়ে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তার দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটল। সংবিধান অনুযায়ী এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়ে পদত্যাগ
পদত্যাগপত্রে মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারও হয়েছে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্রের একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মাঝে মাঝে তিনি অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি জানান, এসব শারীরিক সমস্যার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সংবিধানের বিধান অনুসারে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আন্তরিকতা, সততা এবং সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের আগস্টে সৃষ্ট রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় তিনি সংবিধানের বিধান অনুসরণ করে সর্বোচ্চ আদালতের পরামর্শ নেন। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয় এবং সংসদীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে।
এখন কী হবে
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার সাংবিধানিক মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর এখন দেশের নজর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















