বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবিলায় নেওয়া কঠোর মিথেন নির্গমনবিষয়ক বিধিমালায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সাময়িকভাবে স্থগিত করার পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক চাপের পর এই পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা কার্যকর হওয়ার সময় আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।
জরিমানা কার্যকর হতে পারে ২০৩০ সালে
ইউরোপীয় কমিশন সদস্য দেশগুলোর কাছে সুপারিশ করেছে, আগামী বছর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা অমান্যকারীদের জরিমানা তিন বছরের জন্য স্থগিত রাখা হোক। প্রস্তাব অনুযায়ী, জরিমানার বিধান ২০৩০ সালের আগে কার্যকর হবে না।
বর্তমান নিয়মে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা আমদানিকারকদের মিথেন নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং তার তথ্য জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতি একক আমদানি করা জ্বালানির জন্য নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি মিথেন নির্গমনও সীমাবদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কেন বাড়ছে আপত্তি
মিথেনকে অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এর নির্গমন কমাতে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর দাবি, বর্তমান নিয়ম বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন এবং এতে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তা ইউরোপের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। আমদানিনির্ভর দেশগুলো ইতোমধ্যেই উচ্চ জ্বালানি মূল্যের চাপে রয়েছে, যা শিল্পখাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ রপ্তানিকারকদের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে নিয়ম শিথিল করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউরোপে কার্যক্রম পরিচালনা করা কয়েকটি বহুজাতিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই বিধি প্রযোজ্য হওয়ায় তাদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রীরা যৌথভাবে জানিয়েছিলেন, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী নিয়ম মেনে চলার বাস্তবসম্মত সুযোগ খুবই সীমিত। তাদের মতে, জরিমানা কার্যকর হলে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
লক্ষ্য অপরিবর্তিত, নিয়মও বহাল
ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, মিথেন নির্গমন কমানোর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য থেকে তারা সরে আসছে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগের মতোই নিয়ম মেনে চলতে হবে। তবে জরিমানা কার্যকর হওয়ার সময় পিছিয়ে দেওয়া হলেও ইচ্ছাকৃত প্রতারণা বা তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস উৎপাদকদের সংগঠন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন ইতিবাচক হলেও শিল্পখাতের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করার জন্য এটি যথেষ্ট নয়। তাদের মতে, বিধিমালাকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করতে অতিরিক্ত সংশোধন প্রয়োজন।
মিথেন বিধিতে শাস্তি স্থগিতের পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন উদ্যোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও জ্বালানি খাতের চাপ, সম্ভাব্য প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















