মার্কিন বিচার বিভাগ শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক টাইমসের কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জারি করা সমন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আদালতে শুনানির সময় একজন ফেডারেল বিচারক তদন্ত প্রক্রিয়ায় আইনি নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তোলার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা তদন্তের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
আদালতে বিচারকের কঠোর অবস্থান
শুনানিতে বিচারক স্পষ্ট করে জানান, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী একটি পদক্ষেপ এবং এটি কেবল সর্বশেষ বিকল্প হিসেবেই ব্যবহার করা উচিত। তিনি প্রসিকিউটরদের কাছে জানতে চান, কেন এই ক্ষেত্রে সেই উচ্চ আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিচার বিভাগের আইনজীবীরা জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমোদন থাকলে এমন সমন জারি করা সম্ভব। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
বিমান নিয়ে প্রতিবেদন ঘিরে তদন্ত
নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি কাতার সরকারের উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা একটি বিমান, যা পরে প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, সে বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কয়েকজন সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে সমন পৌঁছে দেন ফেডারেল কর্মকর্তারা। আরও কয়েকজন সাংবাদিকের কাছেও সমন পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের ফোনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে জানা যায়, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্বজনদের নম্বরও ওই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। বিচার বিভাগ এটিকে দ্রুত কাজ করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি ভুল বলে স্বীকার করেছে।
সংবাদপত্রের আপত্তি
নিউইয়র্ক টাইমসের আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করে বলেন, সাংবাদিকদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের জন্য যে আইনি শর্ত পূরণ করা দরকার, এই সমন তা পূরণ করেনি। তাদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি সংবাদমাধ্যমের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং বিচার বিভাগের নিজস্ব নীতিমালার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
শুনানির সময় বিচারক ইঙ্গিত দেন, বিচার বিভাগ নিজে থেকে সমন প্রত্যাহার না করলে আদালতই তা বাতিল করে দিত।
তদন্ত চলবে, তবে সমন নয়
সমন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করলেও নিউইয়র্ক টাইমসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুরুতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল না। অন্যদিকে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তাদের মতে, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত।
একই ধরনের একটি তদন্তে আরেকটি বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছেও আগে সমন পাঠানো হলেও পরে সেটিও প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এই ঘটনাকে অনেকেই সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের ক্ষমতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা তদন্তের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। আদালতের এই অবস্থান ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা নিশ্চিত করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















