০৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
ইরানের দ্রুত পুনর্গঠনে নতুন উদ্বেগ, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত প্রশ্নফাঁস রোধে আরও কঠোর আইন আনছে ভারত, দ্রুত বিচার আদালতের ঘোষণা মোদির চার্লি এক্সসির নতুন অ্যালবাম ঘিরে আলোড়ন, নাচের সুর ছেড়ে নতুন পথে জনপ্রিয় তারকা লোহিত সাগরে হুতিদের নতুন তৎপরতা, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেলের বাজারে বাড়ছে অনিশ্চয়তা সৌদি পরমাণু চুক্তিতে নতুন শর্ত ট্রাম্পের, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ মার্কিন চাপের মুখে মিথেন বিধিতে শিথিলতার পথে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্ষমতার বলয়ে আটকে পড়া পরিবর্তনের রাজনীতি লোহিত সাগরে হামলার পর ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি, উত্তেজনায় তেলের বাজারে নতুন ধাক্কা নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সমন প্রত্যাহার, বিচারকের কড়া প্রশ্নে পিছু হটল মার্কিন বিচার বিভাগ শ্রম অধিকার ইস্যুতে ৮০টির বেশি দেশের ওপর নতুন শুল্ক, ট্রাম্প প্রশাসনের বড় ঘোষণা

এফএসআরইউর ত্রুটিতে গ্যাস সংকট, দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহে সরকারের জোর উদ্যোগ

দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে দেখা দেওয়া সংকট কাটিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সরকার। ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিটে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।

প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে সরবরাহে বড় ধাক্কা

সরকার জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইউনিটে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি সামনে এলো

সরকারের মতে, অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর ফলে আমদানি অবকাঠামোতে সামান্য সমস্যাও জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এই নির্ভরতা কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি গ্যাস কূপ খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন প্রকল্প ও অনুসন্ধানে গতি

সরকার ইতোমধ্যে নতুন গ্যাস কূপ খননের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্র উভয় এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগ চলছে। উৎপাদন অংশীদারিত্ব কাঠামোর আওতায় নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। তবুও সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগোচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও একটি ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উপায়ে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং নতুন কূপ খননের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি বেড়েছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্রাহকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। সরকার আশা করছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

গ্যাস সরবরাহে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরি পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের দ্রুত পুনর্গঠনে নতুন উদ্বেগ, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত

এফএসআরইউর ত্রুটিতে গ্যাস সংকট, দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহে সরকারের জোর উদ্যোগ

০৭:২১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহে দেখা দেওয়া সংকট কাটিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সরকার। ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিটে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর।

প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে সরবরাহে বড় ধাক্কা

সরকার জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইউনিটে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি সামনে এলো

সরকারের মতে, অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এর ফলে আমদানি অবকাঠামোতে সামান্য সমস্যাও জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

এই নির্ভরতা কমাতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি গ্যাস কূপ খননের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন প্রকল্প ও অনুসন্ধানে গতি

সরকার ইতোমধ্যে নতুন গ্যাস কূপ খননের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্র উভয় এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার উদ্যোগ চলছে। উৎপাদন অংশীদারিত্ব কাঠামোর আওতায় নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার, কূপ খনন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করতে সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। তবুও সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগোচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

বর্তমান সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও একটি ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প উপায়ে গ্যাস আমদানির সম্ভাবনা যাচাই, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং নতুন কূপ খননের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে ভোগান্তি বেড়েছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্রাহকেরা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। সরকার আশা করছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি দূর হলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

গ্যাস সরবরাহে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার জরুরি পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।