শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জোরালো হলেও তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। বরং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তিনি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক, শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতিমূলক বার্তা পুনঃপ্রকাশের মধ্যেই নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
ওডিশার সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক
সংসদের অচলাবস্থার মধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের রাজ্য ওডিশার একাধিক সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজ্যের উন্নয়ন, শিক্ষা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠকের ছবি প্রকাশের পর অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের বার্তা হিসেবে দেখেছেন।
প্রকাশ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রসঙ্গ এড়িয়ে শিক্ষা নীতি নিয়ে আলোচনা
বৈঠকের দিনই বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শিক্ষামন্ত্রীদের এক সম্মেলনে দীর্ঘ বক্তব্য দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেখানে তিনি মাতৃভাষায় শিক্ষা, জাতীয় শিক্ষা নীতি এবং নতুন পাঠ্যক্রমের মতো বিষয় তুলে ধরলেও চলমান প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিতর্ক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
বিরোধীদের সমালোচনায় মন্ত্রীর অবস্থান
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেন, বিরোধী দল শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তিনি দাবি করেন, সরকার সংসদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের সমাধান, সংস্কার এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পুনঃপ্রকাশ
গত দুই দিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং নতুন আইন আনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান তা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ করেন। সরকার জানায়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আন্দোলন অব্যাহত, সরকারের জবাবের অপেক্ষা
এদিকে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তাদের প্রতিনিধিরা সরকারের কাছে নিজেদের দাবি লিখিতভাবে তুলে দিয়েছেন। সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার জন্য কিছু সময় চেয়েছে। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুর বিতর্ক আপাতত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ধর্মেন্দ্র প্রধান বর্তমানে ওডিশার সম্বলপুর আসনের সাংসদ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি ২০২১ সাল থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রতিটি পদক্ষেপ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















