০৩:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ভারতের ‘বর্ষাকাল’: গণতন্ত্রে নতুন জাগরণের ইঙ্গিত নিট-সংকটের প্রতিবাদে ভারতের তরুণদের উত্থান, কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে নতুন বার্তা শনির বলয় থেকে কণা সংগ্রহ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবট কিউডেঙ্গা টিকা নিয়ে নতুন সতর্কতা, ডেঙ্গু না হওয়া শিশুদের ঝুঁকি কতটা প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে অনশন, মন্ত্রীর পদত্যাগের পরও আন্দোলন চলবে: আইসা শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি-পেলেটগান ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছে, প্রশ্ন রাহুল গান্ধীর বার্ধক্য নয়, প্রকৃত চ্যালেঞ্জ ভঙ্গুরতা: দীর্ঘজীবনের সঙ্গে সুস্থ থাকার নতুন সমীকরণ আসামে মন্ত্রীর মেয়ের বিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী ২১ বছরেই বিধায়ক হওয়ার সুযোগ চান রেভন্ত রেড্ডি, তরুণদের রাজনীতিতে আনতে নতুন উদ্যোগ পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপ, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ‘একটিও ফাঁস হয়নি’

‘ই২০ জনতা পার্টি’ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন ঝড়, গড়কড়ির পদত্যাগের দাবি

ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আলোচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ‘ই২০ জনতা পার্টি’ নামে আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক নাগরিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নীতির বিরোধিতা করে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই প্ল্যাটফর্ম।

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে আপত্তি

ভারতে ই২০ জ্বালানি বলতে ২০ শতাংশ ইথানল ও ৮০ শতাংশ পেট্রোলের মিশ্রণকে বোঝানো হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, যানবাহনের ধোঁয়া থেকে দূষণ কমানো এবং কৃষকদের জন্য ইথানলের বাজার তৈরি করাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য।

তবে এই জ্বালানি নিয়ে দেশটিতে বিতর্কও রয়েছে। পুরোনো মডেলের গাড়িতে সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যা, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং ইথানল উৎপাদনে কৃষিকাজের জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকে।

সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত বাড়ছে অনুসারী

‘ই২০ জনতা পার্টি’ নামে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক অনুসারী অর্জন করেছে। রোববার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর অনুসারী সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি বেড়ে যায়। পরদিন তা ৪৮ হাজার ছাড়িয়ে যায় বলে জানা গেছে। আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত একটি অ্যাকাউন্টের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সাধারণ মানুষের সমস্যা সামনে আনা, ভোক্তার অধিকার রক্ষা, নীতির প্রভাব নিয়ে স্বচ্ছ আলোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

তাদের বক্তব্য, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি পুরোপুরি বাতিল করার দাবি নয়; বরং মানুষকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

নীতির বিরুদ্ধে মন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ির পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি ই২০ জ্বালানি নীতি এবং বাণিজ্যিক যানবাহনে ব্যয়বহুল অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা ও জরুরি সংকেত বোতাম বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি ‘ই২০ জনতা পার্টি’ অ্যাকাউন্ট থেকে আগামী ৪ আগস্ট সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে ভারতের বিভিন্ন এলাকার ট্যাক্সি, পর্যটন ও বাণিজ্যিক যানবাহনের মালিক ও চালকদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে এই কর্মসূচি কতটা বড় আকার ধারণ করবে এবং এটি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মতো ব্যাপক জনসমর্থন পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ককরোচ জনতা পার্টি: ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন 'সুপারস্টারের' আবির্ভাব - BBC  News বাংলা

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পর নতুন ধারা

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ব্যাপক আলোচনায় আসে। বেকার তরুণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনলাইন প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে আন্দোলনটি রাস্তায়ও ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে বড় ধরনের সমাবেশ হয়। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনকারীরা শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে কয়েক দিনের টানা আন্দোলনের পর শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণা আসে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যঙ্গাত্মক নাগরিক উদ্যোগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

নজর এখন ৪ আগস্টের কর্মসূচিতে

ই২০ জনতা পার্টিকে ঘিরে অনুসারী ও আলোচনা দ্রুত বাড়লেও এটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে পরিণত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে ৪ আগস্টের সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় কত মানুষ অংশ নেন এবং সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে ভোক্তার পছন্দ, গাড়ির সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব ও কৃষিতে পানির ব্যবহার—এসব বিষয় ভারতের জনপরিসরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই নতুন উদ্যোগ সেই বিতর্ককে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের ‘বর্ষাকাল’: গণতন্ত্রে নতুন জাগরণের ইঙ্গিত

‘ই২০ জনতা পার্টি’ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নতুন ঝড়, গড়কড়ির পদত্যাগের দাবি

০১:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আলোচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ‘ই২০ জনতা পার্টি’ নামে আরেকটি ব্যঙ্গাত্মক নাগরিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল নীতির বিরোধিতা করে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই প্ল্যাটফর্ম।

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে আপত্তি

ভারতে ই২০ জ্বালানি বলতে ২০ শতাংশ ইথানল ও ৮০ শতাংশ পেট্রোলের মিশ্রণকে বোঝানো হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, যানবাহনের ধোঁয়া থেকে দূষণ কমানো এবং কৃষকদের জন্য ইথানলের বাজার তৈরি করাই এই নীতির অন্যতম লক্ষ্য।

তবে এই জ্বালানি নিয়ে দেশটিতে বিতর্কও রয়েছে। পুরোনো মডেলের গাড়িতে সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যা, জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং ইথানল উৎপাদনে কৃষিকাজের জন্য বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন অনেকে।

সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত বাড়ছে অনুসারী

‘ই২০ জনতা পার্টি’ নামে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট সাম্প্রতিক সময়ে সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক অনুসারী অর্জন করেছে। রোববার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর অনুসারী সংখ্যা ২৫ হাজারের বেশি বেড়ে যায়। পরদিন তা ৪৮ হাজার ছাড়িয়ে যায় বলে জানা গেছে। আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে।

এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত একটি অ্যাকাউন্টের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। সাধারণ মানুষের সমস্যা সামনে আনা, ভোক্তার অধিকার রক্ষা, নীতির প্রভাব নিয়ে স্বচ্ছ আলোচনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

তাদের বক্তব্য, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি পুরোপুরি বাতিল করার দাবি নয়; বরং মানুষকে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

নীতির বিরুদ্ধে মন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ির পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি ই২০ জ্বালানি নীতি এবং বাণিজ্যিক যানবাহনে ব্যয়বহুল অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা ও জরুরি সংকেত বোতাম বাধ্যতামূলক করার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয়েছে।

আরেকটি ‘ই২০ জনতা পার্টি’ অ্যাকাউন্ট থেকে আগামী ৪ আগস্ট সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে ভারতের বিভিন্ন এলাকার ট্যাক্সি, পর্যটন ও বাণিজ্যিক যানবাহনের মালিক ও চালকদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে এই কর্মসূচি কতটা বড় আকার ধারণ করবে এবং এটি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মতো ব্যাপক জনসমর্থন পাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ককরোচ জনতা পার্টি: ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন 'সুপারস্টারের' আবির্ভাব - BBC  News বাংলা

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র পর নতুন ধারা

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ব্যাপক আলোচনায় আসে। বেকার তরুণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মে মাসে এর যাত্রা শুরু হয়।

পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক অনলাইন প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে আন্দোলনটি রাস্তায়ও ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির জন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে বড় ধরনের সমাবেশ হয়। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনকারীরা শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলে।

জুলাইয়ের শেষ দিকে কয়েক দিনের টানা আন্দোলনের পর শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণা আসে। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ব্যঙ্গাত্মক নাগরিক উদ্যোগের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

নজর এখন ৪ আগস্টের কর্মসূচিতে

ই২০ জনতা পার্টিকে ঘিরে অনুসারী ও আলোচনা দ্রুত বাড়লেও এটি কতটা দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনে পরিণত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে ৪ আগস্টের সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় কত মানুষ অংশ নেন এবং সরকার এ বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে ভোক্তার পছন্দ, গাড়ির সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব ও কৃষিতে পানির ব্যবহার—এসব বিষয় ভারতের জনপরিসরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই নতুন উদ্যোগ সেই বিতর্ককে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।