০৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
তেহরান–ওয়াশিংটন উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে হামলা বন্ধের পাল্টাপাল্টি ঘোষণা, যুদ্ধবিরতির নতুন সম্ভাবনা ইউক্রেনের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ২০২৭ সালের মধ্যেই পরীক্ষামূলক নমুনা তৈরির লক্ষ্য আইন প্রকাশে আধুনিকতা জরুরি, নইলে গণতন্ত্রে বাড়বে দূরত্ব করের ভার কাদের কাঁধে? চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে উত্থান, চিপ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কীভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বেইজিং গভীর নিম্নচাপে রূপ নিল মৌসুমি লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত ভারতের ‘বর্ষাকাল’: গণতন্ত্রে নতুন জাগরণের ইঙ্গিত নিট-সংকটের প্রতিবাদে ভারতের তরুণদের উত্থান, কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে নতুন বার্তা শনির বলয় থেকে কণা সংগ্রহ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবট

পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপ, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ‘একটিও ফাঁস হয়নি’

পাঞ্জাবে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিরোধীদের একের পর এক অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দাবি করেছেন, আম আদমি পার্টির সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিরোধীরা তাঁর বক্তব্য মানতে নারাজ। এদিকে চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি

রোববার জিরাকপুরে সরকারি বিদ্যালয়ের ৮৮২ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়ার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। এসব শিক্ষার্থী সম্প্রতি পুনরায় অনুষ্ঠিত জাতীয় চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

সেখানে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মান বলেন, তাঁর সরকার প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এই সময়ে পাঞ্জাবে একটি প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তবে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর সরকারের সময়ে একটি নকলের ঘটনা সামনে এসেছিল। তাঁর দাবি, ফার্মেসি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে সক্রিয় একটি অত্যন্ত সংগঠিত আন্তঃরাজ্য নকলচক্র পুলিশ শনাক্ত করে ভেঙে দিয়েছে।

Not a single paper leak case under AAP govt in Punjab: Mann

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসও পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ ছাড়তে হয়েছে, অথচ পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে শিক্ষামন্ত্রীরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনিও পাঞ্জাব সরকারের সমালোচনায় মুখ খুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার তরুণদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আবগারি পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষার ফল নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ফলাফলে গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের নামের তালিকায় অস্বাভাবিক কিছু নাম থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

ফার্মেসি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়েও পাঞ্জাব সরকারের সমালোচনা করেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বারবার এমন অভিযোগ ওঠা সরকারি চাকরির জন্য পরিশ্রম করা মেধাবী তরুণদের প্রতি অন্যায়।

Not a single paper leak case under AAP government in Punjab: CM Bhagwant  Mann

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে তরুণদের মিছিল

এদিকে সরকারি চাকরি ও দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি পূরণের দাবিতে পাঞ্জাবের সাঙ্গরুরে আন্দোলনরত তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

বেকার তরুণদের একটি সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলেন। রোববার তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে মিছিল শুরু করেন। হাতে ছিল চাকরি ও বিভিন্ন দাবি পূরণের আহ্বানসংবলিত ব্যানার।

মিছিলটি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ পথে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হন। ঘটনাস্থলে কয়েকজন নারীসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান বলেও জানা গেছে।

আন্দোলনকারীদের নেতারা জানিয়েছেন, সরকার তাঁদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাড়ছে চাপ

একদিকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করছেন, অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিজেপি সরকারকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ তুলছে। এর সঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি এখন পাঞ্জাবের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট মনে করছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তেহরান–ওয়াশিংটন উত্তেজনা কমার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

পাঞ্জাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপ, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ‘একটিও ফাঁস হয়নি’

০২:১৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পাঞ্জাবে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিরোধীদের একের পর এক অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান দাবি করেছেন, আম আদমি পার্টির সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিরোধীরা তাঁর বক্তব্য মানতে নারাজ। এদিকে চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি

রোববার জিরাকপুরে সরকারি বিদ্যালয়ের ৮৮২ জন শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়ার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। এসব শিক্ষার্থী সম্প্রতি পুনরায় অনুষ্ঠিত জাতীয় চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

সেখানে বিরোধীদের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে মান বলেন, তাঁর সরকার প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এই সময়ে পাঞ্জাবে একটি প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তবে তিনি স্বীকার করেন, তাঁর সরকারের সময়ে একটি নকলের ঘটনা সামনে এসেছিল। তাঁর দাবি, ফার্মেসি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে সক্রিয় একটি অত্যন্ত সংগঠিত আন্তঃরাজ্য নকলচক্র পুলিশ শনাক্ত করে ভেঙে দিয়েছে।

Not a single paper leak case under AAP govt in Punjab: Mann

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কংগ্রেসের

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসও পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং শিক্ষামন্ত্রী হরজোত সিং বেইন্সের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ ছাড়তে হয়েছে, অথচ পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রী এখনো দায়িত্বে রয়েছেন। বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠলে শিক্ষামন্ত্রীরও দায়িত্ব নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনিও পাঞ্জাব সরকারের সমালোচনায় মুখ খুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে সরকার তরুণদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আবগারি পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষার ফল নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, ফলাফলে গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত রয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের নামের তালিকায় অস্বাভাবিক কিছু নাম থাকার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

ফার্মেসি কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়েও পাঞ্জাব সরকারের সমালোচনা করেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বারবার এমন অভিযোগ ওঠা সরকারি চাকরির জন্য পরিশ্রম করা মেধাবী তরুণদের প্রতি অন্যায়।

Not a single paper leak case under AAP government in Punjab: CM Bhagwant  Mann

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে তরুণদের মিছিল

এদিকে সরকারি চাকরি ও দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি পূরণের দাবিতে পাঞ্জাবের সাঙ্গরুরে আন্দোলনরত তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

বেকার তরুণদের একটি সংগঠনের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান করছিলেন। রোববার তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে মিছিল শুরু করেন। হাতে ছিল চাকরি ও বিভিন্ন দাবি পূরণের আহ্বানসংবলিত ব্যানার।

মিছিলটি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশ পথে ব্যারিকেড দিয়ে বাধা দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী সামান্য আহত হন। ঘটনাস্থলে কয়েকজন নারীসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী অসুস্থ হয়ে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান বলেও জানা গেছে।

আন্দোলনকারীদের নেতারা জানিয়েছেন, সরকার তাঁদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাড়ছে চাপ

একদিকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করছেন, অন্যদিকে কংগ্রেস ও বিজেপি সরকারকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ তুলছে। এর সঙ্গে চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের আন্দোলন ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা এবং যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি এখন পাঞ্জাবের রাজনীতিতে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। সারাক্ষণ রিপোর্ট মনে করছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি রাজ্যের রাজনৈতিক বিতর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।