ভারতের তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেভন্ত রেড্ডি। তিনি আইনসভায় প্রবেশের ন্যূনতম বয়স ২৫ থেকে কমিয়ে ২১ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
রেভন্ত রেড্ডির প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো। তাঁর মতে, নবীন প্রজন্মের শক্তি, চিন্তাভাবনা ও উদ্যমকে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আরও বেশি কাজে লাগানো প্রয়োজন।
তিনি তরুণদের জন্য নতুন একটি স্লোগানের কথাও বলেছেন—‘জয় জওয়ান, জয় কিষান ও জয় যুবা’। তাঁর বক্তব্য, দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণদের আরও বড় ভূমিকা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সুযোগও বাড়াতে হবে।
রাহুল গান্ধীর সঙ্গে আলোচনা করবেন রেভন্ত

দিল্লি সফরের সময় রেভন্ত রেড্ডি রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। পরে রাহুল গান্ধীকে বিরোধী জোটের অংশীদারসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার অনুরোধ জানানো হবে।
রেভন্ত রেড্ডি মনে করেন, আইনসভায় তরুণদের প্রবেশের বয়স কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে বিস্তৃত রাজনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন। এ কারণে তিনি বিষয়টি শুধু দলীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
আগস্টে বিধানসভায় প্রস্তাব
তেলেঙ্গানা সরকার আগামী আগস্টে রাজ্য বিধানসভায় এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাস করার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পরে সেটি কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হবে।
তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংসদেও বিষয়টি আলোচনায় আনার চেষ্টা করা হতে পারে। বিরোধী দলগুলো চাইলে ব্যক্তিগত সদস্যের বিলের মাধ্যমে প্রস্তাবটি সামনে এনে ক্ষমতাসীন দলের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে।
আসন পুনর্বিন্যাস ও নারী সংরক্ষণের সঙ্গেও আলোচনা

রেভন্ত রেড্ডি জানিয়েছেন, আইনসভায় প্রবেশের বয়স কমানোর প্রস্তাবটি ভবিষ্যতে সংসদের আসন পুনর্বিন্যাস, নারী সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনসংখ্যা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সঙ্গে একসঙ্গে আলোচিত হতে পারে।
প্রয়োজনে প্রস্তাবটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছেও পাঠানো যেতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতামত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তরুণদের কণ্ঠস্বর শুনতে হবে
রেভন্ত রেড্ডির বক্তব্যে তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, শুধু একমুখী যোগাযোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনোভাব বোঝা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত সাধারণ মানুষের কথা শোনা এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের রাজনৈতিক যোগাযোগের ধরনও বদলানো।
তাঁর এই প্রস্তাব বাস্তবে কতটা এগোয়, তা এখন নির্ভর করছে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিরোধী জোটের অংশীদার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আলোচনার ওপর। তবে ২১ বছর বয়সে আইনসভায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবি ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার দাবি এবং আইনসভায় প্রবেশের বয়স ২১ বছরে নামানোর প্রস্তাবই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















