ভারতের ঝাড়খণ্ডে দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে পলাতক থাকা শীর্ষ মাওবাদী নেতা মিশির বেসরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে নিষিদ্ধ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও পলিটব্যুরোর কোনো সক্রিয় সদস্য আর বাইরে রইলেন না বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
মঙ্গলবার ধানবাদ জেলার টুন্ডি-মাণ্ডিয়া এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালানোর সময় মিশির বেসরাকে আটক করা হয়। ওই এলাকা ধানবাদ ও গিরিডিহ জেলার সীমান্তের কাছে এবং পরশনাথ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। তাঁর সন্ধান দিতে পারলে এক কোটি রুপির বেশি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা ছিল।
জঙ্গলে পালানোর সময় আটক
নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মধ্যে মিশির বেসরা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ধরতে অভিযান চললেও এবার তাঁকে জীবিত অবস্থায় আটক করা সম্ভব হয়েছে।

মিশির বেসরার সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগী গৌরব হাসদা ও মোচুকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগের দিন তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী আত্মসমর্পণ করায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
দুই দশকের বেশি সময় পর গ্রেপ্তার
মিশির বেসরা দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। সংগঠনটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণে দীর্ঘদিন ধরে অনড় ছিলেন।
একসময় ভারতের মাওবাদী সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৪০ জনের বেশি সদস্য ছিলেন। নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার এবং আত্মসমর্পণের ধারাবাহিকতায় গত কয়েক বছরে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। সক্রিয় ২১ জন কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্যের ক্ষেত্রেও গ্রেপ্তার, নিহত হওয়া কিংবা আত্মসমর্পণের ঘটনা ঘটেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ছেলেকেও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাতে বলা হয়েছিল
মিশির বেসরার ছেলে সিদ্ধার্থ বেসরা জানিয়েছেন, বাবার গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো জানানো হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা এর আগেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিশির বেসরাকে আত্মসমর্পণের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন।

প্রায় ১৫ দিন আগেও পুলিশ তাঁর কাছে গিয়ে বাবাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি লিখতে বলেছিল বলে সিদ্ধার্থ জানান। তিনি আরও বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে বাবার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। তবে তাঁকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়েছে জেনে তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
পশ্চিম সিংভূমের মর্যাদা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা
মিশির বেসরার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলাকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বামপন্থী চরমপন্থার দিক থেকে উদ্বেগের জেলা হিসেবে বিবেচনা করে আসছিল।
দেশটির আরও কয়েকটি পুরোনো মাওবাদী ঘাঁটি থেকে শীর্ষ নেতাদের আত্মসমর্পণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। ছত্তিশগড়ের বাস্তারসহ একাধিক এলাকাকে এরই মধ্যে উদ্বেগের জেলার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মিশির বেসরার গ্রেপ্তারের পর পশ্চিম সিংভূমের অবস্থানও নতুন করে পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। তাঁর গ্রেপ্তার ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী তৎপরতা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















