ভারতের দিল্লিতে নারীদের জন্য চালু হতে যাওয়া মাসিক আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে বড় ধরনের শর্ত সামনে এসেছে। তিনটির বেশি জীবিত সন্তান থাকা নারীরা এই সুবিধা পাবেন না। এর ফলে দিল্লির সবচেয়ে কম আয়ের পরিবারের প্রায় ১৫ শতাংশ নারী কর্মসূচির আওতার বাইরে পড়ে যেতে পারেন।
দিল্লি সরকারের ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’ নামে এই কর্মসূচিতে যোগ্য নারীদের প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ রুপি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা মঙ্গলবার কর্মসূচিটির নির্দেশিকা অনুমোদন করেছে।
কারা পাবেন মাসিক সহায়তা
নির্দেশনা অনুযায়ী, ২১ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারী, যাদের পরিবারের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার রুপির বেশি নয়, তারা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। কর্মসূচিটি প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে।
তবে তিনটির বেশি জীবিত সন্তান থাকলে নারীরা এই সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন। পাশাপাশি বছরে ২ হাজার ৪০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারও যোগ্য হবে না। অর্থাৎ মাসে গড়ে ২০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে সেই পরিবার কর্মসূচির বাইরে চলে যেতে পারে।

এ ছাড়া আয়করদাতা, পণ্য ও পরিষেবা করের বিবরণী দাখিলকারী, সরকারি কর্মচারী এবং যেসব পরিবারের সদস্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, সরকারি সংস্থা কিংবা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তারাও এই সুবিধা পাবেন না।
চার চাকার গাড়ির মালিক পরিবার, অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা বা পেনশন পাওয়া নারী এবং অপরাধের রেকর্ড থাকা নারীদেরও কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে।
প্রথম কিস্তি আসতে পারে রাখিবন্ধনে
দিল্লি সরকার জানিয়েছে, আগামী ১ আগস্ট থেকে অনলাইনে আবেদন নেওয়া শুরু হবে। আবেদন যাচাইয়ের পর রাখিবন্ধন উৎসবকে সামনে রেখে প্রথম কিস্তি দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের হিসাবে, শুরুতে ১৭ লাখের বেশি নারী এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য ৫ হাজার ১১০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন শর্তগুলোর কারণে শেষ পর্যন্ত কতজন নারী সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হিসাব পাওয়া যায়নি।
পুরো অর্থ নগদে তোলার সুযোগ নেই
মাসিক সহায়তার অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি পদ্ধতিতে ১ হাজার ৫০০ রুপি মাসিক সঞ্চয়ী আমানত বা মেয়াদি আমানত হিসাবে জমা হবে এবং বাকি ১ হাজার রুপি ডিজিটাল রুপি ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ডিজিটাল মানিব্যাগে দেওয়া হবে। এই অর্থ সরকার অনুমোদিত নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবা কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে।

অন্য পদ্ধতিতে পুরো ২ হাজার ৫০০ রুপিই সঞ্চয়ী আমানত বা মেয়াদি আমানতে রাখা যাবে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে নারীদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে উৎসাহিত করা হবে। দুই ক্ষেত্রেই সরাসরি নগদ টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
নারীর আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেছেন, নির্বাচনের সময় নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তা পূরণ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এর ফলে দিল্লির বিপুলসংখ্যক নারী আর্থিক নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতার নতুন সুযোগ পাবেন।
কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র তৈরি, সময়মতো টিকাদান এবং পুষ্টি-সংক্রান্ত সরকারি ব্যবস্থায় নিবন্ধনের মতো বিষয়েও উৎসাহিত করা হবে।
নারীদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যুক্ত হওয়া ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতেও অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকবিরোধী উদ্যোগে অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি সরকারের এই উদ্যোগ একদিকে নারীদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বড় কর্মসূচি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে, অন্যদিকে একাধিক যোগ্যতার শর্তের কারণে কারা শেষ পর্যন্ত সুবিধা পাবেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















