জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপের কুমামোতো প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিকম্পে একটি শপিং মল ও একটি কাগজ কারখানায় বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সড়ক ক্ষতি, ঐতিহাসিক স্থাপনার দেয়াল ধস এবং একটি ফুটব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা প্রথমে এর মাত্রা ৭.১ জানালেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর মাত্রা ৬.৮ নির্ধারণ করে। ভূমিকম্পের পর কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৮৭২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
কুমামোতো অঞ্চলে অতীতেও বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে। ২০১৬ সালে কুমামোতো ও পাশের ওইতা প্রিফেকচারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৭৮ জন নিহত হয়েছিলেন।
শপিং মলে প্রাণহানি ও উদ্ধার অভিযান
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর একটি হলো কুমামোতোর এইয়ন শপিং মল। প্রিফেকচারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ পর্যন্ত অন্তত আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর শপিং মলে বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা যায়। মল কর্তৃপক্ষের দাবি, কর্মী ও ক্রেতাদের সরিয়ে নেওয়ার পর বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি অংশ ধসে পড়ে এবং কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
কাগজ কারখানায় নিখোঁজ, চিমনি ধস
কুমামোতো প্রিফেকচারের নিপ্পন পেপারের ইয়াতসুশিরো প্ল্যান্টেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কারখানার একটি চিমনি ধসে পড়েছে।
স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে দুজনকে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঐতিহাসিক দুর্গ, সড়ক ও রেল যোগাযোগেও ক্ষতি
ভূমিকম্পের কম্পনে ১৭শ শতকের ঐতিহাসিক কুমামোতো দুর্গের পাথরের দেয়ালের অংশ ধসে পড়েছে। ২০১৬ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্পেও এই দুর্গের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এ ছাড়া কুমামোতো অঞ্চলের একটি ফুটব্রিজ ভেঙে পড়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিভিন্ন সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিউশু দ্বীপজুড়ে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। জাপানের গণমাধ্যম এনএইচকের তথ্য অনুযায়ী, বুলেট ট্রেনে থাকা অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন এবং রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক যাত্রীকে রাতভর ট্রেনেই অবস্থান করতে হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর ১ থেকে ৪ মাত্রার মধ্যে ৬০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও প্রায় দুই ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও পরিবর্তিত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















