যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যে চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত ব্রায়ান কোহবার্গার নিজের দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের চেষ্টা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতদের এক পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, কোহবার্গার এখন নিজের অবস্থান বদলে অযথা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে চাইছেন, অথচ এতে নিহতদের পরিবারগুলোর কষ্ট আরও বাড়ছে।
২০২৫ সালে কোহবার্গার চারটি হত্যাকাণ্ডে দোষ স্বীকার করার পর আদালত তাকে পরপর চারটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ২০২২ সালের নভেম্বরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড এড়াতে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন।
অবস্থান বদলের দাবি
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বক্তব্যে কোহবার্গার দাবি করেন, তিনি যে দোষ স্বীকার করেছিলেন তা ছিল “মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও স্পষ্ট বিভ্রান্তিকর তথ্যের” ভিত্তিতে। তিনি এখন সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রসিকিউশন চাইলে আবারও তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করতে পারে।
পরিবারের তীব্র প্রতিক্রিয়া
নিহত শিক্ষার্থী কেলি গনকালভেসের পরিবার এক বিবৃতিতে কোহবার্গারকে “আত্মমুগ্ধ” বলে অভিহিত করেছে। তাদের ভাষ্য, তিনি নিজের ভাগ্য কিংবা মামলার প্রকৃত তথ্য কখনও জুরির হাতে ছেড়ে দিতে চাননি।
পরিবারটি আরও জানায়, দোষ স্বীকারের সময় কোহবার্গার কখনও বলেননি যে তিনি চাপের মুখে ছিলেন, যথাযথভাবে অবহিত ছিলেন না বা তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে কোনো গুরুতর সমস্যা ছিল। বরং দুই বছর ধরে তিনি ও তার আইনজীবীরা মামলার নথি পর্যালোচনা করেছেন।
গনকালভেস পরিবার বলেছে, সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—এই নতুন পদক্ষেপের কারণে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন কোহবার্গার, অথচ নিহত চার শিক্ষার্থীর স্মৃতি ও তাদের পরিবারের দুর্ভোগ আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
যে হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রকে নাড়িয়ে দিয়েছিল
২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর আইডাহো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কেলি গনকালভেস, ইথান চ্যাপিন, জ্যানা কার্নোডল এবং ম্যাডিসন মোগেনকে ক্যাম্পাসের বাইরে তাদের ভাড়া বাসায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
ঘটনাটি ছোট্ট শিক্ষার্থী শহর মস্কোকে স্তব্ধ করে দেয় এবং প্রায় দুই মাস জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকে। পরে ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী ব্রায়ান কোহবার্গারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারীরা হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি। নিহতদের সঙ্গে কোহবার্গারের সরাসরি কোনো সম্পর্কও প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতি নির্দেশ করে এমন শক্তিশালী প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
আইনি লড়াই কতটা সফল হতে পারে?
আইডাহোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল ল্যাব্রাডর নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে বলেন, তারা অকল্পনীয় ক্ষতির মধ্য দিয়ে গেছেন এবং নতুন এই আইনি পদক্ষেপ তাদের জন্য আরও বেদনাদায়ক।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার পুরোপুরি নিশ্চিত করতে তার কার্যালয় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোহবার্গারের দোষ স্বীকারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা সহজ হবে না। আইডাহো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক স্যাম নিউটনের ভাষ্য, কোহবার্গার আদালতে শপথ করে বলেছিলেন যে তিনি চুক্তির শর্ত বুঝে, স্বেচ্ছায় এবং নিজেকে দোষী জেনেই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। এমন অবস্থায় আদালতের কাছে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে হলে পর্দার আড়ালে গুরুতর অনিয়মের শক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















