কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে কিছুটা শীতল আবহাওয়ার আভাস মিলেছে। বৃহস্পতিবার থেকে একটি শীতল বায়ুপ্রবাহ দেশটিতে প্রবেশ করায় উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের অনেক জায়গায় তাপমাত্রা কমবে এবং কোথাও কোথাও বৃষ্টিও হতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে খরায় ভোগা দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা এখনও খুবই কম।
তাপপ্রবাহের পর বদলাচ্ছে আবহাওয়া
বুধবার যুক্তরাজ্যে চলমান তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ইংল্যান্ডের এসেক্সের রিটলে, যেখানে পারদ ওঠে ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যদিও এটি গত জুন মাসে নরফোকে রেকর্ড হওয়া ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাকে ছাড়াতে পারেনি, তবু সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর অন্যতম উষ্ণ দিন ছিল এটি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এখন থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হলেও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খরাপীড়িত এলাকায় এই শীতল বায়ুপ্রবাহ খুব বেশি বৃষ্টি নিয়ে আসবে না।

খরা আরও গভীর হচ্ছে
ইংল্যান্ডের অর্ধেকেরও বেশি অঞ্চলে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে খরা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নদীর পানি কমে যাওয়া, আগাম ফসল কাটা এবং দাবানলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ২ কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে বাগানে পাইপ দিয়ে পানি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।
গত সপ্তাহে উত্তর ওয়েলস এবং আপার সেভার্ন নদী অববাহিকাকেও খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। স্কটল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে খরা ঘোষণা না করা হলেও দেশটির পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় পানির ঘাটতিকে সবচেয়ে গুরুতর পর্যায়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ডে এখনো খরা পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়নি।
কোথায় বৃষ্টি, কোথায় শুষ্কতা
ইংল্যান্ডের সারের উইজলি এলাকায় টানা ৪২ দিন বৃষ্টি হয়নি। নতুন শীতল বায়ুপ্রবাহ সেখানে পৌঁছালেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তর-পশ্চিম যুক্তরাজ্যেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। স্কটিশ হাইল্যান্ডসের অল্টবিয়া এলাকায় ইতোমধ্যেই জুলাই মাসের স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
আগামী সপ্তাহেও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। দক্ষিণাঞ্চলেও কিছু বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা গেলেও পূর্বাভাসে এ বিষয়ে এখনো যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ভাঙছে তাপমাত্রার রেকর্ড
এ বছরের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সাত দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৭৬ ও ২০২০ সালে সর্বোচ্চ পাঁচ দিন এমন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।
এছাড়া চলতি গ্রীষ্মে ইতোমধ্যে ৩১ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ছিল। ১৯৯৫ সালের ৩৪ দিনের রেকর্ড স্পর্শ বা অতিক্রম করার সুযোগ এখনও রয়েছে, কারণ গ্রীষ্মের বাকি সময়ে আরও তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে।
খরার কারণে পানি সংকট, কৃষি এবং পরিবেশের ওপর চাপ বাড়লেও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে এই সংকট কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















