রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে ভুগছেন। অনেক এলাকায় টানা কয়েক দিন, কোথাও আবার দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে, মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বহু দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
উত্তর ক্রিমিয়ার বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেক পরিবার জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হলেও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সেটিও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে, তাও অস্বাভাবিক ভোল্টেজে, যা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ইউক্রেনের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য সাধারণ মানুষ নয়; বরং রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। ইউক্রেনের নেতৃত্বের ভাষ্য, ক্রিমিয়ায় সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর একজন কমান্ডার প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা কার্যত “ক্রিমিয়ার সুইচ বন্ধ করে দিয়েছে”।
রুশ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রকৃত ব্যাপ্তি সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে রাশিয়ার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন হাসপাতালগুলোতে জেনারেটর সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিলেও অনেক বাসিন্দার মতে, তা বাস্তব ক্ষতির তুলনায় যথেষ্ট নয়।
সংকটের কারণে অনেক মানুষ জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও বিকল্প বিদ্যুৎ সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ ক্রিমিয়া ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন। পর্যটননির্ভর অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে; কিছু পর্যটক আগেই এলাকা ছেড়ে গেছেন এবং কিছু কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই সংকটের চিত্র খুব কমই তুলে ধরা হচ্ছে। বরং সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—এমন বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু বাসিন্দা বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
সামগ্রিকভাবে, এই ড্রোন অভিযান দেখাচ্ছে যে যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই; বরং দখলকৃত ক্রিমিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও অবকাঠামোর ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















