০৩:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়তি: বছরে মানুষের পকেট থেকে যাবে প্রায় ১৫–১৬ হাজার কোটি লালমনিরহাটে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই পাম্পে দীর্ঘ লাইন, মধ্যরাতের আগে বিক্রিতে অনীহা নাটোরে ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালক নিহত চার এসপিকে বদলি, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গায় নতুন পুলিশ সুপার ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার ১১ মাসের শিশু গাইবান্ধার একই গ্রামে দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩ অবশেষে কথার বাইরে ব্রিটেন: ইসরায়েলি বসতি নিয়ে নীতির বদল কতটা কার্যকর হবে? দেবিদ্বারে নৃশংস হত্যাকাণ্ড: মা-ভাবি ও ৮ মাসের ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ চার মিনিটে তিন ককটেল বিস্ফোরণ, সুন্দরগঞ্জে আতঙ্ক সার না পেয়ে কৃষকের হামলা, পেটালেন কৃষি কর্মকর্তাকে

বিক্ষোভের বিশৃঙ্খলা, আমলাতন্ত্রের জবাবদিহি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

ভারতে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জনজীবনে যে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থার জবাবদিহিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও প্রশাসনের অদক্ষতা ও জবাবদিহির অভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আইন মেনে চলা সাধারণ নাগরিকরা।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের আগে ভারত জঙ্গিবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সশস্ত্র সহিংসতার মতো নানা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত ছিল। গত এক দশকে সশস্ত্র মাওবাদী তৎপরতা দমনে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতিতে এবং জম্মু-কাশ্মীরে সহিংসতা কমাতে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য দাবি করছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে লেখকের মতে, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার এসব অগ্রগতির পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। দেশের মেধাবী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও সরকারি নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, জনসেবার মান এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।

জনদুর্ভোগ বাড়ায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা

Will take responsibility for all actions carried out in discharge of  duties': CRPF Director General's message for staff | India News

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সড়কে নিয়মভঙ্গ, জনসাধারণের সম্পদের ক্ষতি, আকস্মিক যানজট কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো ঘটনাগুলো শুধু নাগরিকদের আচরণের সমস্যা নয়; এগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতাও স্পষ্ট করে।

লেখকের মতে, অদক্ষ, স্বার্থান্বেষী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন জনগণের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। সেই ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রূপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তার কারণে অধিকাংশ আমলা কার্যত জবাবদিহির বাইরে থেকে যান। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়মিত জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

বিক্ষোভ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির প্রশ্ন

সাম্প্রতিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে লেখক বলেন, যদি এসব বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে থাকে, তবে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার ব্যর্থতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত। আর যদি এর পেছনে বৃহত্তর কোনো পরিকল্পনা থেকে থাকে, তাহলে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কারণ পরিস্থিতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তা আগাম অনুমান ও প্রতিরোধে ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

Delhi Police cancels leaves of personnel, no training till CJP protests go  on - BW Police World

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনের উচিত ছিল শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জমে ওঠা অসন্তোষ আগেই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জানানো এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

জবাবদিহি ও সংস্কারের আহ্বান

লেখকের মতে, কোনো ঘটনার পর শুধু ব্যর্থতা স্বীকার করে তদন্ত শেষ করাই যথেষ্ট নয়। বরং প্রশাসনের ভেতরে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। কারণ সহিংস বিক্ষোভ ও অস্থিরতা সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

তিনি মনে করেন, নিয়োগ পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সর্বোপরি জনসাধারণের প্রতি জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণকেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তুলতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

শেষে লেখক দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের আন্দোলন, ২০২০ সালের দাঙ্গা এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, আইন মেনে চলা ও কর প্রদানকারী সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগে ফেলার পরিবর্তে তাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়তি: বছরে মানুষের পকেট থেকে যাবে প্রায় ১৫–১৬ হাজার কোটি

বিক্ষোভের বিশৃঙ্খলা, আমলাতন্ত্রের জবাবদিহি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

০১:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ভারতে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জনজীবনে যে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থার জবাবদিহিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও প্রশাসনের অদক্ষতা ও জবাবদিহির অভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন আইন মেনে চলা সাধারণ নাগরিকরা।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের আগে ভারত জঙ্গিবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সশস্ত্র সহিংসতার মতো নানা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটে জর্জরিত ছিল। গত এক দশকে সশস্ত্র মাওবাদী তৎপরতা দমনে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতিতে এবং জম্মু-কাশ্মীরে সহিংসতা কমাতে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য দাবি করছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগও এগিয়ে যাচ্ছে।

তবে লেখকের মতে, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার এসব অগ্রগতির পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। দেশের মেধাবী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি সত্ত্বেও সরকারি নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, জনসেবার মান এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে।

জনদুর্ভোগ বাড়ায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা

Will take responsibility for all actions carried out in discharge of  duties': CRPF Director General's message for staff | India News

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সড়কে নিয়মভঙ্গ, জনসাধারণের সম্পদের ক্ষতি, আকস্মিক যানজট কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো ঘটনাগুলো শুধু নাগরিকদের আচরণের সমস্যা নয়; এগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতাও স্পষ্ট করে।

লেখকের মতে, অদক্ষ, স্বার্থান্বেষী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন জনগণের ক্ষোভ বাড়িয়ে দেয়। সেই ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে রূপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি চাকরির নিরাপত্তার কারণে অধিকাংশ আমলা কার্যত জবাবদিহির বাইরে থেকে যান। নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়মিত জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।

বিক্ষোভ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির প্রশ্ন

সাম্প্রতিক পরীক্ষা-সংক্রান্ত আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে লেখক বলেন, যদি এসব বিক্ষোভ স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে থাকে, তবে পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার ব্যর্থতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত। আর যদি এর পেছনে বৃহত্তর কোনো পরিকল্পনা থেকে থাকে, তাহলে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কারণ পরিস্থিতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছিল, তা আগাম অনুমান ও প্রতিরোধে ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

Delhi Police cancels leaves of personnel, no training till CJP protests go  on - BW Police World

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, প্রশাসনের উচিত ছিল শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন ইস্যুতে জমে ওঠা অসন্তোষ আগেই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে জানানো এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

জবাবদিহি ও সংস্কারের আহ্বান

লেখকের মতে, কোনো ঘটনার পর শুধু ব্যর্থতা স্বীকার করে তদন্ত শেষ করাই যথেষ্ট নয়। বরং প্রশাসনের ভেতরে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। কারণ সহিংস বিক্ষোভ ও অস্থিরতা সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

তিনি মনে করেন, নিয়োগ পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সর্বোপরি জনসাধারণের প্রতি জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণকেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তুলতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

শেষে লেখক দিল্লি সীমান্তে কৃষকদের আন্দোলন, ২০২০ সালের দাঙ্গা এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোর প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, আইন মেনে চলা ও কর প্রদানকারী সাধারণ নাগরিকদের দুর্ভোগে ফেলার পরিবর্তে তাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।