যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে গৃহহীন ও অসহায় মানুষের জন্য পরিচালিত একটি আবাসনকেন্দ্র থেকে পরিচয়ের সূত্র ধরে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরুষদের টার্গেট করতেন দণ্ডিত সিরিয়াল কিলার জেমস ডেসবোরো। আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিচার চলাকালে নিহত দুই ব্যক্তির জীবনসংগ্রাম, পারিবারিক সম্পর্ক এবং মৃত্যুর আগে তাদের পরিস্থিতি নিয়ে হৃদয়বিদারক তথ্য উঠে এসেছে।
নিহতদের একজন আকুইলিনো বহু বছর ধরে মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। ২০১৮ সালে দীর্ঘদিনের সঙ্গী মাদক গ্রহণজনিত অতিরিক্ত মাত্রার কারণে মারা যাওয়ার পর তিনি আরও ভেঙে পড়েন। আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তার দেখভালের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, তিনি শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতনের ঝুঁকিতে ছিলেন।
তবে ২০২৫ সালের এপ্রিল নাগাদ তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন এবং সমুদ্রতীরবর্তী নিউকুয়ে শহরে স্থিতিশীল জীবনযাপনের চেষ্টা করছিলেন। সব প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতালিতে থাকা মায়ের সঙ্গে প্রতিদিন কথা বলতেন তিনি। হঠাৎ সেই ফোনকল বন্ধ হয়ে গেলে পরিবার বুঝতে পারে, কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটেছে।

অন্যদিকে নিহত কোলম্যানকে তার ছোট ভাই টনি নাই স্মরণ করেছেন একজন স্নেহশীল, প্রাণবন্ত, রসিক, অসাধারণ গায়ক এবং দক্ষ রাঁধুনি হিসেবে। শৈশব থেকেই তিনি নানা ভয়াবহ ঘটনার শিকার ছিলেন। আদালতে জানানো হয়, মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাকে অপহরণ করে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। পরে দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে লাফিয়ে তিনি প্রাণে বাঁচেন। প্রাপ্তবয়স্ক জীবনেও সড়ক দুর্ঘটনা এবং একাধিক হামলার শিকার হন।
জীবনের নানা সংকটের কারণে কোলম্যানও নিউকুয়ের গৃহহীনদের আবাসনকেন্দ্রে বসবাস করেছিলেন। পরে সেখান থেকে বের হয়ে তিনি ডেসবোরোর মালিকানাধীন একটি জমিতে কিছুদিন ছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, আকুইলিনোকেও একইভাবে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
গত ৩ জুন কোলম্যানকে শেষবার জীবিত দেখা যায়। সেদিন তিনি ডেসবোরোর সঙ্গে বিভিন্ন পানশালায় সময় কাটানোর পর রাতে তার নানীকে শেষবারের মতো ফোন করেছিলেন। প্রসিকিউশনের ধারণা, ওই রাতের পরের ভোরেই তাকে হত্যা করা হয়। আর আকুইলিনোকে তারও কয়েক সপ্তাহ আগে হত্যা করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের বিশ্বাস।

দুর্বল মানুষদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ
আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, দুই ভুক্তভোগীর জীবনেই দীর্ঘদিনের মানসিক, সামাজিক ও আর্থিক সংকট ছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, এই দুর্বল অবস্থার সুযোগ নিয়েই ডেসবোরো তাদের আস্থা অর্জন করেন এবং পরে তাদের হত্যা করেন। মামলাটি যুক্তরাজ্যে গৃহহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।





















