যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। কয়েক দিনের বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। একই সময়ে ইরাক, জর্ডান, মিসর, লেবানন ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পুরো অঞ্চল আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
নতুন মার্কিন হামলা
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন স্থাপনা, উপকূলীয় নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামোসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ভারী হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, মার্কিন বাহিনী, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্য বিদ্যমান হুমকি কমাতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হামলার আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে।
ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ

ইরান এর আগে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটির দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক শহর এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা হয়েছে। কোথাও কোথাও আবাসিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরাকে হামলা ও নতুন উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ওপর বিমান হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সপ্তাহজুড়ে মার্কিন বাহিনী ও সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত হয়েছে। ইরাক সরকার এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।
মিসরের বন্দরে বিস্ফোরণ
![]()
মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এর একটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকার। সামুদ্রিক নজরদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ড্রোন হামলার সম্ভাবনার কথা জানালেও মিসর আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ নিশ্চিত করেনি। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
তেল পরিবহন ও বাজারে প্রভাব
স্ট্রেইট অব হরমুজ এবং লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামুদ্রিক পরিবহন সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এসব রুটে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
লেবাননেও উত্তেজনা
ইসরায়েলের অভিযোগ, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের একটি প্রকৌশল যান লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যদিও হিজবুল্লাহ ওই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা চললেও সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত নাজুক রয়েছে।
যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা
সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরাক, জর্ডান, মিসর, লেবানন এবং গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথও এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে চলে এসেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















