স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউতায় প্রবেশের আশায় হাজারো অভিবাসীর ঢলে মরক্কোর সীমান্তবর্তী ফনিদেক শহরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও রাতভর সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী।
সীমান্তে হাজারো মানুষের ভিড়
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত হাজারো মানুষ ফনিদেকে জড়ো হন। তারা সিউতায় প্রবেশের বিভিন্ন পথ খুঁজতে থাকেন। সীমান্তপথ কার্যত বন্ধ থাকায় অনেকে উপকূল ধরে এগোনোর চেষ্টা করেন, আবার কেউ কেউ সাঁতরে সিউতায় পৌঁছানোর প্রস্তুতি নেন।
স্পেনের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুই থেকে তিন হাজার মানুষ সিউতায় প্রবেশ করতে সক্ষম হন। তবে অধিকাংশই দুপুরের আগেই সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন।
নিরাপত্তা জোরদার, উদ্ধার ৯ মরদেহ
অভিবাসীদের ঢলের পর স্পেন সিউতায় অতিরিক্ত সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে। একই সঙ্গে সিউতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত নয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত ফটকে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করে অভিবাসীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।
সংঘর্ষে পুড়ল বাস ও একাধিক গাড়ি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার সময় সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি বাসসহ অন্তত সাতটি যানবাহন আগুনে পুড়ে যায়। আগুনে পোড়া যানবাহনগুলো সীমান্ত এলাকার উত্তেজনার চিহ্ন হয়ে পড়ে থাকে।
শহরের বিভিন্ন সড়ক, পাহাড়ি এলাকা এবং খোলা জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অভিবাসীরা সুযোগ পেলেই আবার সীমান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন।
পদদলিত হওয়ার আতঙ্ক
একজন অভিবাসী জানান, সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার সময় তিনি পদদলিত হওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন।
তার ভাষায়, সংকীর্ণ উপকূলীয় পথে সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। অনেকেই পড়ে যান এবং অন্যরা তাদের ওপর দিয়েই এগিয়ে যেতে থাকেন। এতে নিজের জীবন নিয়ে আতঙ্কে পড়েছিলেন তিনি।
পরিবার নিয়ে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন
সীমান্তের কাছে দুই কন্যাকে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন ২৩ বছর বয়সী ফাতিমা মাহলি। তিনি জানান, পরিবারের সবাই মিলে সিউতায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ সম্ভব না হওয়ায় তার স্বামী ভোরেই সাঁতরে সিউতায় যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ফাতিমা বলেন, তারা এখন সীমান্ত এলাকায় আটকে পড়েছেন। সামনে এগোতে পারছেন না, আবার বাড়িতেও ফিরতে পারছেন না।
ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রবেশদ্বার
সিউতা এবং মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর। এই দুটি অঞ্চলই আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। ফলে উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে পৌঁছাতে চাওয়া অভিবাসীদের জন্য এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ।
সম্প্রতি স্পেন সরকার দেশটিতে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বিপুল সংখ্যক অভিবাসীকে বৈধতার সুযোগ দেওয়ার কর্মসূচি চালু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ ইউরোপে প্রবেশের আশায় আরও মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে। তবে সীমান্তে বর্তমান পরিস্থিতি নতুন করে মানবিক ও নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 
















