ব্রিটিশ বিলাসবহুল বিপণিবিতান হ্যারডসের সাবেক মালিক মোহাম্মদ আল ফায়েদকে ঘিরে বহুল আলোচিত যৌন নির্যাতনের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে আরও দুই সন্দেহভাজনকে সতর্কীকরণ নোটিশের আওতায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ হওয়া দুজনের একজন নারী ও একজন পুরুষ। দুজনেরই বয়স আশির কোঠায়। গত সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নে সহায়তা করা, যৌন অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং অপরাধে সহায়ক ভূমিকা রাখার সন্দেহ রয়েছে।
সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে ছয়
সর্বশেষ এই জিজ্ঞাসাবাদের ফলে মামলায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
এর আগে চলতি বছর চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের কোঠার তিন নারী এবং ষাটের কোঠার এক পুরুষকে একই ধরনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নে সহায়তা, যৌন অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে মানবপাচারে সহায়তার সন্দেহ রয়েছে।
শতাধিক নারীর অভিযোগ
মোহাম্মদ আল ফায়েদ ১৯৮৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হ্যারডসের মালিক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে শত শত নারী ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
২০২৩ সালে ৯৪ বছর বয়সে আল ফায়েদের মৃত্যু হয়। জীবদ্দশায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও কোনো ফৌজদারি মামলায় তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
তদন্তে ভুক্তভোগীরাই প্রধান শক্তি
মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, আল ফায়েদের অপরাধে যেসব ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করে থাকতে পারেন, তাদের শনাক্ত করার এই তদন্ত তাদের অন্যতম বৃহৎ ও জটিল তদন্তগুলোর একটি।
এ পর্যন্ত ১৫৭ জন ভুক্তভোগী যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, যৌন শোষণ এবং মানবপাচারসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে পুলিশের কাছে এসেছেন।
মেট্রোপলিটন পুলিশের কমান্ডার অ্যান্ডি ডে বলেন, সর্বশেষ এই জিজ্ঞাসাবাদ তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তার ভাষায়, ভুক্তভোগীদের সাহসী সহযোগিতা ছাড়া এই পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্য ও বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আল ফায়েদের অপরাধে যাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তাদের বিচারের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















