দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব শিশুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা, নগর পরিকল্পনা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বলেছে, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেমন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার, তেমনি তাদের নিরাপদ পরিবেশ, পরিকল্পিত আবাসন এবং স্বাস্থ্যসম্মত নগর ও গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুবান্ধব নগর গঠনে পরিকল্পনার বিকল্প নেই
বিআইপির মতে, শিশুদের জন্য বাসযোগ্য শহর ও গ্রাম গড়ে তুলতে সুষ্ঠু নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। সংগঠনটি সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তাদের ভাষ্য, এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অকালমৃত্যু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যসেবা বাড়ালেই হবে না; একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং পরিকল্পিত বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।

শিশুস্বাস্থ্য শুধু হাসপাতালনির্ভর নয়
বিআইপি বলেছে, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন, পর্যাপ্ত খোলা ও সবুজ স্থান, নিরাপদ চলাচল ব্যবস্থা, কার্যকর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, দূষণমুক্ত পরিবেশ এবং সহজলভ্য জনস্বাস্থ্যসেবা—এসবই একটি শিশুবান্ধব নগর বা জনবসতির অপরিহার্য উপাদান।
সংগঠনটির মতে, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং কার্যকর ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব মৌলিক সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
অপরিকল্পিত নগরে শিশুদের ঝুঁকি বেশি
বিআইপি উল্লেখ করেছে, ঘনবসতিপূর্ণ ও অপরিকল্পিত নগর এলাকায় বসবাসকারী শিশুরা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখোমুখি হয়। তাই নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনায় “শিশু-সংবেদনশীল পরিকল্পনা” কাঠামোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
একই সঙ্গে শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামেও শিশুদের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর
বিআইপির মতে, শিশুদের জন্য নিরাপদ নগর ও গ্রামীণ পরিবেশ গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্তৃপক্ষ, নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী, পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় মানসম্মত শিশুস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
হামের প্রাদুর্ভাব সতর্কবার্তা
সংগঠনটি বলেছে, সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাব শিশুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে আরও গভীরভাবে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনটি বিষয়ে যৌথভাবে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে—মানসম্মত চিকিৎসা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ ও পরিকল্পিত আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বিআইপির মতে, শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করা শুধু স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্ব নয়; এটি সমন্বিত নগর, আঞ্চলিক এবং জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনার বিষয়। আজকের শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, মানবিক ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















