চট্টগ্রামের হামজারবাগ এলাকায় কারখানা বিক্রি হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চাকরি হারানোর আশঙ্কায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ‘ইত্যাদি গার্মেন্টস’-এর শ্রমিকরা। একই সঙ্গে তারা চার মাসের বেতনসহ আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে হামজারবাগ-মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এতে ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
চাকরি হারানোর আশঙ্কা
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল করিম জানান, কারখানা বিক্রি হয়ে যাওয়ার খবরের পর চাকরি হারানোর আশঙ্কায় শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো চার মাস বা ১২০ দিনের বেতন ও অন্যান্য আইনগত পাওনা পরিশোধ।

তবে পরে কারখানার মালিক শ্রমিকদের জানিয়েছেন, কারখানা বিক্রি করা হবে না এবং তিনি নিজেই এটি পরিচালনা করবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বেতন-বোনাস বকেয়া
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। অনেক শ্রমিক পাঁচ বছর থেকে শুরু করে ২০ বছর পর্যন্ত এই কারখানায় কাজ করছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক শ্রমিক জানান, অনেক শ্রমিকের বেতন ও বোনাস বকেয়া রয়েছে। এমনকি অন্তঃসত্ত্বা শ্রমিকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার পাওনাও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শ্রমিকদের ভাষ্য, তাদের একমাত্র দাবি হলো ১২০ দিনের পাওনা পরিশোধ করা। এই অর্থ পরিশোধ করা হলে কারখানা বিক্রি হোক বা না হোক, তারা আর সেখানে কাজ করতে চান না এবং পাওনা বুঝে নিয়ে চলে যেতে চান।
মালিকের সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্রমিকদের ক্ষোভ

আরেক শ্রমিক অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের না জানিয়েই কারখানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, শ্রমিকরা কাজ করেছেন পারিশ্রমিকের আশায়। সেই পাওনা না পেলে পরিবার নিয়ে তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিক একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। কখনো কারখানা বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে, আবার কখনো নিজেই কারখানা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তারা জানান, গত আট দিন ধরে কারখানার ভেতরে অবস্থান করে প্রতিবাদ করছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বুধবার তারা সড়কে নেমে আসেন।
আলোচনার প্রস্তাব পুলিশের
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সোহেল পারভেজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রমিকদের ১০ থেকে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠনের পরামর্শ দেন। ওই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মালিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের আলোচনার ব্যবস্থা করার কথা জানান তিনি। প্রয়োজন হলে পুলিশ প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন।

একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, সড়কে বসে আলোচনা করা সম্ভব নয় এবং এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে।
তবে শ্রমিকরা এখনো সড়ক ছাড়েননি। পাওনা পরিশোধের বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
এদিকে হামজারবাগ-মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কে যান চলাচল এখনো ব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
কারখানার মালিক বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















