০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ গরমের দিনে ক্যাট চেনের ঘরোয়া আড্ডা, যেখানে খাবার-পানীয়ের সঙ্গে মিশে যায় স্বস্তি জিএলপি-১ ওষুধের যুগে বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যের ধারণা শেরপুরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ, ২৫ ঘণ্টা পর বিল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্বস্তি, নেটে ফিরেছেন তানজিদ-মুশফিক পুরুষের সাজে নতুন ঝলক, কানে দুলের দাপট চীনে মার্কিন শিক্ষাবিদের আটক নিয়ে রুবিওর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বেইজিংয়ের দিনাজপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মা-মেয়ের মৃত্যু, বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়া হলো না হামসদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মৃত্যু ৯২৮ তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা

বিলাসপণ্যের দাম কমাবে কি বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড? ভোক্তা ফেরাতে নতুন কৌশল

বিলাসপণ্যের বাজারে একসময় দাম বাড়ানোই ছিল বিক্রি ও মুনাফা বাড়ানোর প্রধান কৌশল। কিন্তু মহামারির পর সেই কৌশল এখন উল্টো চাপ তৈরি করছে। ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের একটি বড় অংশ বিলাসপণ্যের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রেতাদের আবার ফিরিয়ে আনতে বিলাসপণ্যের দাম কি কমানো উচিত?

সম্প্রতি গুচি তাদের নতুন নকশার একটি চামড়ার হাতব্যাগের দাম আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যে ব্যাগটির দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৯০০ ডলার, মে মাসে সেটির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি গুচি ও এর মূল প্রতিষ্ঠান কেরিংয়ের বিক্রি পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির চাপ

মহামারির সময় বিলাসপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ড পণ্যের দাম বাড়াতে থাকে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যক্তিগত বিলাসপণ্যের গড় দাম প্রায় ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

এর প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায় বিখ্যাত হাতব্যাগগুলোর ক্ষেত্রে। চ্যানেলের মাঝারি আকারের একটি পরিচিত হাতব্যাগ, যা ১৯৮০-এর দশকে প্রায় ১ হাজার ডলারে পাওয়া যেত, ২০১৯ সালে তার দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ডলার। বর্তমানে একই ব্যাগের দাম প্রায় ১১ হাজার ৭০০ ডলার।

লুই ভুইতনের বহুল পরিচিত আরেকটি হাতব্যাগের দামও ২০০৭ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ফলে বিলাসপণ্যের সবচেয়ে পরিচিত পণ্যগুলোর অনেকগুলোর দাম কয়েক বছরের ব্যবধানে কার্যত দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বিলাসপণ্যে ভোক্তাদের ব্যয় কমেছে।

দাম বাড়লেও মান কি বেড়েছে?

বিলাসপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিয়ে। বিশেষ করে তরুণ ক্রেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন, একটি ব্যাগ বা পোশাকের দাম এত বেশি হওয়ার পেছনে আসলে কতটা উৎপাদন ব্যয় এবং কতটা ব্র্যান্ডের মুনাফা রয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ মনে করছে, বিপুল অর্থ খরচ করে বিলাসপণ্য কেনার মধ্যে আগের মতো আকর্ষণ নেই। এমনকি গত বছরের শেষ দিকে জরিপে দেখা যায়, বিলাসপণ্য কেনেন এমন প্রজন্মের ৭২ শতাংশ তরুণ একটি সস্তা অনুকরণধর্মী ব্যাগকে অত্যন্ত দামি আসল ব্যাগের চেয়ে বেশি পছন্দ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানেই বিলাসপণ্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা। পণ্যের মান বা নকশায় বড় পরিবর্তন না থাকলেও দাম কেন এত বেড়েছে—এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর ক্রেতারা পাচ্ছেন না।

পরিচিত পণ্যের দাম কমানো ঝুঁকিপূর্ণ

তবে সব বিলাসপণ্যের দাম সরাসরি কমিয়ে দেওয়া সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু বছর ধরে যেসব ব্যাগ বা পণ্য একটি ব্র্যান্ডের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে, সেগুলোর দাম কমালে উল্টো ব্র্যান্ডের মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চ্যানেলের পরিচিত হাতব্যাগ কিংবা ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের জনপ্রিয় নকশার মতো পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্য কমানো ভোক্তার কাছে বড় ধরনের সংকেত পাঠাতে পারে। এতে ক্রেতারা ভাবতে পারেন, এতদিন যে দামে পণ্য বিক্রি হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত মূল্যের সামঞ্জস্য ছিল না।

এ ছাড়া পুরোনো ক্রেতাদেরও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা এসব পণ্যকে বিনিয়োগ হিসেবে কিনেছেন বা পরে বেশি দামে বিক্রির আশা করেছেন, দাম কমে গেলে তাদের সম্পদের পুনর্বিক্রয়মূল্যও কমে যেতে পারে।

নতুন পণ্যে কম দাম, পুরোনো পণ্যে মর্যাদা

তাই অনেক ব্র্যান্ড সরাসরি পুরোনো পণ্যের দাম কমানোর পরিবর্তে নতুন পণ্য কম দামে বাজারে আনছে। গুচিও একই পথে এগোচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি একদিকে উচ্চমূল্যের পণ্যের পরিসরকে আরও আকর্ষণীয় করতে চাইছে, অন্যদিকে মাঝারি দামের ব্যাগের সংখ্যা বাড়াচ্ছে এবং প্রবেশমূল্যের পণ্য নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

লুই ভুইতনও নতুন ধরনের ব্যাগ তুলনামূলক কম দামে বাজারে আনছে, অথচ ১২ থেকে ১৫ হাজার ডলার দামের ব্যাগগুলো বহাল রাখছে। এর ফলে ব্র্যান্ড একই সঙ্গে ধনী ক্রেতা এবং তুলনামূলক কম সামর্থ্যের আকাঙ্ক্ষী ক্রেতা—দুই শ্রেণিকেই ধরে রাখতে পারছে।

এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ক্রেতাকে এমন একটি পণ্য দেওয়া, যেটি বিলাসপণ্যের অনুভূতি তৈরি করবে, কিন্তু কেনার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে না।

বারবেরির কৌশল বদলের সাফল্য

বারবেরিও দাম কমানোর বদলে পণ্যের মূল্যস্তর পুনর্বিন্যাস করেছে। কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত উচ্চমূল্যের কিছু হাতব্যাগ বাজারে আনার পর সমালোচনার মুখে পড়ে।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের তিনটি স্তর—ভালো, আরও ভালো এবং সর্বোচ্চ মান—ভিত্তিক মূল্য কাঠামো ফিরিয়ে আনে। ২০২৫ সালে নতুন ধরনের প্রবেশমূল্যের হাতব্যাগ বাজারে আনা হয়, যার বেশির ভাগের দাম ২ হাজার পাউন্ডের নিচে।

ফলে ২ হাজার পাউন্ডের বেশি দামের হাতব্যাগের অনুপাত ২০২৩ সালের শেষের প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে বর্তমানে প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক হিসাবেও এই নতুন মূল্যকাঠামো কার্যকর হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সাশ্রয়ী বিলাসপণ্যের নতুন চাহিদা

বিলাসপণ্যের বাজারে এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থের যথাযথ মূল্য পাওয়ার ধারণা। কোচের মতো ব্র্যান্ড তুলনামূলক কম দামের পণ্য, এমনকি ১২ ডলারের মোজার পাশাপাশি ২ হাজার পাউন্ডের কোটও বিক্রি করছে।

পোলেন ও সেজানের মতো ব্র্যান্ডও তুলনামূলক কম দামে বিলাসবহুল পরিবেশ ও নকশার অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। ফলে ক্রেতারা এমন দোকানে যাচ্ছেন যেখানে বিলাসপণ্যের আবহ রয়েছে, কিন্তু প্রবেশের জন্য অস্বস্তিকরভাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানেই ভবিষ্যতের বড় সুযোগ। বিলাসপণ্য মানেই যে আকাশছোঁয়া দাম হতে হবে—এই ধারণা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত আসল বিষয় দাম নয়, আকর্ষণ

তবে শুধু দাম কমালেই বিলাসপণ্যের বাজার ঘুরে দাঁড়াবে না। পণ্যে এমন নকশা, গুণমান ও আকর্ষণ তৈরি করতে হবে, যাতে ক্রেতা মনে করেন তিনি যে অর্থ দিচ্ছেন তার যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যানেলের সাম্প্রতিক সাফল্যও দেখাচ্ছে যে অনন্য নকশা ও শক্তিশালী পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতারা এখনও বেশি দাম দিতে প্রস্তুত। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন কোনো পণ্য অতিরিক্ত সহজলভ্য হয়ে যায় অথচ তার দাম বিলাসপণ্যের পর্যায়ে থাকে।

তাই আগামী দিনে সরাসরি দাম কমানোর চেয়ে নতুন পণ্যের মূল্যস্তর পুনর্গঠন, তুলনামূলক সাশ্রয়ী পণ্য তৈরি এবং একই সঙ্গে বিখ্যাত পণ্যের মর্যাদা ধরে রাখার কৌশলই বেশি কার্যকর হতে পারে।

বিলাসপণ্যের বাজার এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু উচ্চমূল্য আর ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে ক্রেতাকে ধরে রাখা কঠিন। ক্রেতা এখন জানতে চান—তিনি যে অর্থ দিচ্ছেন, তার বিনিময়ে আসলে কী পাচ্ছেন। সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলেই বিলাসপণ্যের বাজার আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

বিলাসপণ্যের দাম কমানো নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে তাই শুধু মূল্য নয়, মূল্যবোধ, আকর্ষণ ও ক্রেতার আস্থা

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

৭০ বছরে কিম ক্যাট্রাল: লাল গালিচায় তাঁর ৭০টি স্মরণীয় সাজ

বিলাসপণ্যের দাম কমাবে কি বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড? ভোক্তা ফেরাতে নতুন কৌশল

০৩:৩২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

বিলাসপণ্যের বাজারে একসময় দাম বাড়ানোই ছিল বিক্রি ও মুনাফা বাড়ানোর প্রধান কৌশল। কিন্তু মহামারির পর সেই কৌশল এখন উল্টো চাপ তৈরি করছে। ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রেতাদের একটি বড় অংশ বিলাসপণ্যের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রেতাদের আবার ফিরিয়ে আনতে বিলাসপণ্যের দাম কি কমানো উচিত?

সম্প্রতি গুচি তাদের নতুন নকশার একটি চামড়ার হাতব্যাগের দাম আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যে ব্যাগটির দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৯০০ ডলার, মে মাসে সেটির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি গুচি ও এর মূল প্রতিষ্ঠান কেরিংয়ের বিক্রি পুনরুদ্ধারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির চাপ

মহামারির সময় বিলাসপণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ড পণ্যের দাম বাড়াতে থাকে। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যক্তিগত বিলাসপণ্যের গড় দাম প্রায় ৫২ শতাংশ বেড়েছে।

এর প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায় বিখ্যাত হাতব্যাগগুলোর ক্ষেত্রে। চ্যানেলের মাঝারি আকারের একটি পরিচিত হাতব্যাগ, যা ১৯৮০-এর দশকে প্রায় ১ হাজার ডলারে পাওয়া যেত, ২০১৯ সালে তার দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ডলার। বর্তমানে একই ব্যাগের দাম প্রায় ১১ হাজার ৭০০ ডলার।

লুই ভুইতনের বহুল পরিচিত আরেকটি হাতব্যাগের দামও ২০০৭ সালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ফলে বিলাসপণ্যের সবচেয়ে পরিচিত পণ্যগুলোর অনেকগুলোর দাম কয়েক বছরের ব্যবধানে কার্যত দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে বিলাসপণ্যে ভোক্তাদের ব্যয় কমেছে।

দাম বাড়লেও মান কি বেড়েছে?

বিলাসপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে পণ্যের প্রকৃত মূল্য নিয়ে। বিশেষ করে তরুণ ক্রেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন, একটি ব্যাগ বা পোশাকের দাম এত বেশি হওয়ার পেছনে আসলে কতটা উৎপাদন ব্যয় এবং কতটা ব্র্যান্ডের মুনাফা রয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ মনে করছে, বিপুল অর্থ খরচ করে বিলাসপণ্য কেনার মধ্যে আগের মতো আকর্ষণ নেই। এমনকি গত বছরের শেষ দিকে জরিপে দেখা যায়, বিলাসপণ্য কেনেন এমন প্রজন্মের ৭২ শতাংশ তরুণ একটি সস্তা অনুকরণধর্মী ব্যাগকে অত্যন্ত দামি আসল ব্যাগের চেয়ে বেশি পছন্দ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানেই বিলাসপণ্যের সবচেয়ে বড় সমস্যা। পণ্যের মান বা নকশায় বড় পরিবর্তন না থাকলেও দাম কেন এত বেড়েছে—এই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর ক্রেতারা পাচ্ছেন না।

পরিচিত পণ্যের দাম কমানো ঝুঁকিপূর্ণ

তবে সব বিলাসপণ্যের দাম সরাসরি কমিয়ে দেওয়া সহজ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু বছর ধরে যেসব ব্যাগ বা পণ্য একটি ব্র্যান্ডের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে, সেগুলোর দাম কমালে উল্টো ব্র্যান্ডের মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চ্যানেলের পরিচিত হাতব্যাগ কিংবা ক্রিশ্চিয়ান ডিওরের জনপ্রিয় নকশার মতো পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্য কমানো ভোক্তার কাছে বড় ধরনের সংকেত পাঠাতে পারে। এতে ক্রেতারা ভাবতে পারেন, এতদিন যে দামে পণ্য বিক্রি হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত মূল্যের সামঞ্জস্য ছিল না।

এ ছাড়া পুরোনো ক্রেতাদেরও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা এসব পণ্যকে বিনিয়োগ হিসেবে কিনেছেন বা পরে বেশি দামে বিক্রির আশা করেছেন, দাম কমে গেলে তাদের সম্পদের পুনর্বিক্রয়মূল্যও কমে যেতে পারে।

নতুন পণ্যে কম দাম, পুরোনো পণ্যে মর্যাদা

তাই অনেক ব্র্যান্ড সরাসরি পুরোনো পণ্যের দাম কমানোর পরিবর্তে নতুন পণ্য কম দামে বাজারে আনছে। গুচিও একই পথে এগোচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি একদিকে উচ্চমূল্যের পণ্যের পরিসরকে আরও আকর্ষণীয় করতে চাইছে, অন্যদিকে মাঝারি দামের ব্যাগের সংখ্যা বাড়াচ্ছে এবং প্রবেশমূল্যের পণ্য নতুনভাবে সাজাচ্ছে।

লুই ভুইতনও নতুন ধরনের ব্যাগ তুলনামূলক কম দামে বাজারে আনছে, অথচ ১২ থেকে ১৫ হাজার ডলার দামের ব্যাগগুলো বহাল রাখছে। এর ফলে ব্র্যান্ড একই সঙ্গে ধনী ক্রেতা এবং তুলনামূলক কম সামর্থ্যের আকাঙ্ক্ষী ক্রেতা—দুই শ্রেণিকেই ধরে রাখতে পারছে।

এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ক্রেতাকে এমন একটি পণ্য দেওয়া, যেটি বিলাসপণ্যের অনুভূতি তৈরি করবে, কিন্তু কেনার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে না।

বারবেরির কৌশল বদলের সাফল্য

বারবেরিও দাম কমানোর বদলে পণ্যের মূল্যস্তর পুনর্বিন্যাস করেছে। কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত উচ্চমূল্যের কিছু হাতব্যাগ বাজারে আনার পর সমালোচনার মুখে পড়ে।

পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি পণ্যের তিনটি স্তর—ভালো, আরও ভালো এবং সর্বোচ্চ মান—ভিত্তিক মূল্য কাঠামো ফিরিয়ে আনে। ২০২৫ সালে নতুন ধরনের প্রবেশমূল্যের হাতব্যাগ বাজারে আনা হয়, যার বেশির ভাগের দাম ২ হাজার পাউন্ডের নিচে।

ফলে ২ হাজার পাউন্ডের বেশি দামের হাতব্যাগের অনুপাত ২০২৩ সালের শেষের প্রায় ৩০ শতাংশ থেকে বর্তমানে প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক হিসাবেও এই নতুন মূল্যকাঠামো কার্যকর হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

সাশ্রয়ী বিলাসপণ্যের নতুন চাহিদা

বিলাসপণ্যের বাজারে এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে অর্থের যথাযথ মূল্য পাওয়ার ধারণা। কোচের মতো ব্র্যান্ড তুলনামূলক কম দামের পণ্য, এমনকি ১২ ডলারের মোজার পাশাপাশি ২ হাজার পাউন্ডের কোটও বিক্রি করছে।

পোলেন ও সেজানের মতো ব্র্যান্ডও তুলনামূলক কম দামে বিলাসবহুল পরিবেশ ও নকশার অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। ফলে ক্রেতারা এমন দোকানে যাচ্ছেন যেখানে বিলাসপণ্যের আবহ রয়েছে, কিন্তু প্রবেশের জন্য অস্বস্তিকরভাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানেই ভবিষ্যতের বড় সুযোগ। বিলাসপণ্য মানেই যে আকাশছোঁয়া দাম হতে হবে—এই ধারণা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত আসল বিষয় দাম নয়, আকর্ষণ

তবে শুধু দাম কমালেই বিলাসপণ্যের বাজার ঘুরে দাঁড়াবে না। পণ্যে এমন নকশা, গুণমান ও আকর্ষণ তৈরি করতে হবে, যাতে ক্রেতা মনে করেন তিনি যে অর্থ দিচ্ছেন তার যথাযথ মূল্য পাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চ্যানেলের সাম্প্রতিক সাফল্যও দেখাচ্ছে যে অনন্য নকশা ও শক্তিশালী পণ্যের ক্ষেত্রে ক্রেতারা এখনও বেশি দাম দিতে প্রস্তুত। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন কোনো পণ্য অতিরিক্ত সহজলভ্য হয়ে যায় অথচ তার দাম বিলাসপণ্যের পর্যায়ে থাকে।

তাই আগামী দিনে সরাসরি দাম কমানোর চেয়ে নতুন পণ্যের মূল্যস্তর পুনর্গঠন, তুলনামূলক সাশ্রয়ী পণ্য তৈরি এবং একই সঙ্গে বিখ্যাত পণ্যের মর্যাদা ধরে রাখার কৌশলই বেশি কার্যকর হতে পারে।

বিলাসপণ্যের বাজার এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে শুধু উচ্চমূল্য আর ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে ক্রেতাকে ধরে রাখা কঠিন। ক্রেতা এখন জানতে চান—তিনি যে অর্থ দিচ্ছেন, তার বিনিময়ে আসলে কী পাচ্ছেন। সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলেই বিলাসপণ্যের বাজার আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

বিলাসপণ্যের দাম কমানো নিয়ে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে তাই শুধু মূল্য নয়, মূল্যবোধ, আকর্ষণ ও ক্রেতার আস্থা