ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ব্রিটেনকে ইউক্রেন সংঘাতে সরাসরি অংশগ্রহণকারী এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়নে সক্রিয় পক্ষ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে রাশিয়া।
ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপন তথ্য দেবে ব্রিটেন
ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এমবিডিএকে ব্রিটিশ প্রযুক্তিতে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু গোপন তথ্য ইউক্রেনকে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে ইউক্রেন নিজ দেশেই দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগোতে পারবে।
স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্রের ফরাসি সংস্করণ স্কাল্পে ফরাসি ও ব্রিটিশ—দুই দেশের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২৫০ কিলোমিটারের বেশি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে ব্রিটেনই প্রথম ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। এবার ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন প্রযুক্তি ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধও অনুমোদন করা হয়েছে।
রাশিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া
ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ব্রিটেন কিয়েভের পক্ষ নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে সংঘাত আরও উসকে দিচ্ছে।
তার দাবি, ইউক্রেনকে আরও সামরিক সক্ষমতা দেওয়ার মাধ্যমে ব্রিটেন শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের স্থাপনাগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের প্রস্তুতি
ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, গোপন তথ্য হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে ফ্রান্স ও ইউক্রেন ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি সমর্থনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে গঠিত মিত্রজোটের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
ব্রিটিশ ড্রোন নিয়েও অভিযোগ
রাশিয়ার অভিযোগ, ব্রিটেন শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিই নয়, ইউক্রেনের রাশিয়ার গভীরে হামলার ক্ষেত্রেও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রুশ পক্ষ দাবি করেছে, ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি কিছু চালকবিহীন বিমান গত ছয় মাসে রাশিয়ার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি তেল শোধনাগারও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার গভীরে হামলায় ব্যবহৃত ইউক্রেনীয় চালকবিহীন বিমান সরবরাহ অব্যাহত রাখলে ব্রিটেনকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
মস্কোর বক্তব্য, রাশিয়ার বিরুদ্ধে হামলায় ব্রিটিশ ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা থাকলে সেটিকে যুদ্ধের অংশগ্রহণ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের পরিণতির জন্য ব্রিটেনকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















