০৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব তুরস্কে বাস উল্টে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ছয় মাসের সুস্থতার লড়াই ১২ বছরের গ্রেটার থাইল্যান্ডের ডিটিভি ভিসায় নতুন দুই শর্ত, লাগবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও স্থায়ী বসবাসের প্রমাণ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে হাইকোর্টে রিট ডিএমপিতে বড় রদবদল, নতুন দায়িত্ব পেলেন ৮ কর্মকর্তা নেপালের বন্যা শুধু নেপালের নয়, আমরা সবাই এখন ভাটির মানুষ নাইজারে বিদ্রোহী সেনাদের হামলার পর বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার ইউতে যোগ দেওয়ার আলোচনা ফেরানোর প্রস্তাব নাকচ করলেন আইসল্যান্ডের ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা ফের শুরু করবে কি আইসল্যান্ড, ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ফক্স নিউজে গিয়ে টিকে থাকার কঠিন পাঠ শিখছেন মার্কিন প্রগতিশীলরা

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা ফের শুরু করবে কি আইসল্যান্ড, ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা আবার শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে আইসল্যান্ডের গণভোটে শেষ মুহূর্তে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে দুই পক্ষ। ফলে ভোটের চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভোটে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে বিরোধীরা

শুক্রবার পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর বিপক্ষে। অন্যদিকে ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার আলোচনা শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রায় চার লাখ মানুষের দেশ আইসল্যান্ডে এবার ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। রাজধানী রেইকিয়াভিকে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়লেও গ্রামীণ অনেক এলাকায় ভোটদানের হার ৮০ শতাংশের বেশি হয়েছে বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ হলে কী হবে

Image

গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর পক্ষে রায় এলে আইসল্যান্ড আবার সদস্যপদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে পারবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দেশটি সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়ে যাবে।

আলোচনা শেষ হওয়ার পর সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আইসল্যান্ডে আরও একটি গণভোট আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য দেশের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।

২০০৯ সালে শুরু হয়েছিল সদস্যপদের যাত্রা

২০০৯ সালে আইসল্যান্ড প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল। সে সময় দেশটির বড় ব্যাংকগুলোর পতনের কারণে অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটের মধ্যে ছিল।

তবে ২০১৩ সালে আলোচনা কার্যত থেমে যায়। বিশেষ করে মাছ ধরার অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

বর্তমানে আইসল্যান্ড ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। দেশটি উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একটি এবং নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনী না থাকলেও এর নিরাপত্তা কাঠামো ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ

Image

আইসল্যান্ডের কেফ্লাভিক বিমানঘাঁটিতে নিয়মিত মিত্রদেশগুলোর সামরিক বিমান অবস্থান করে। বিভিন্ন সদস্য দেশ পালাক্রমে যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান পরিচালনা করে এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে রুশ সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে।

২০২৩ সাল থেকে আইসল্যান্ড তার জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। ২০২৫ সালে এমন একটি সাবমেরিন প্রথমবারের মতো রেইকিয়াভিকে বন্দরে আসে। সে সময় শর্ত ছিল, সাবমেরিনটিতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।

অর্থনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্টাদোত্তির ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি পরবর্তী সময়ে সদস্যপদ নিয়ে আরেকটি গণভোট আয়োজনেরও সমর্থক।

তার যুক্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে পারলে আইসল্যান্ডের অর্থনীতি দ্বিপক্ষীয় শুল্কের ঝুঁকি থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকবে। ছোট অর্থনীতির দেশ হিসেবে এককভাবে বড় দেশগুলোর সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ মোকাবিলা করা আইসল্যান্ডের জন্য কঠিন হতে পারে।

ফলে এই গণভোট শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রশ্ন নয়; আইসল্যান্ডের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইসল্যান্ডের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনার দরজা খুলবে কি না, এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরো দেশ।

Image

 

Image

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা ফের শুরু করবে কি আইসল্যান্ড, ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

০৩:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা আবার শুরু করা হবে কি না, তা নিয়ে আইসল্যান্ডের গণভোটে শেষ মুহূর্তে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে বা পিছিয়ে রয়েছে দুই পক্ষ। ফলে ভোটের চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভোটে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে বিরোধীরা

শুক্রবার পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর বিপক্ষে। অন্যদিকে ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার আলোচনা শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রায় চার লাখ মানুষের দেশ আইসল্যান্ডে এবার ভোটার উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। রাজধানী রেইকিয়াভিকে প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পড়লেও গ্রামীণ অনেক এলাকায় ভোটদানের হার ৮০ শতাংশের বেশি হয়েছে বলে সরকারি তথ্য জানিয়েছে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ হলে কী হবে

Image

গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর পক্ষে রায় এলে আইসল্যান্ড আবার সদস্যপদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে পারবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে দেশটি সরাসরি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হয়ে যাবে।

আলোচনা শেষ হওয়ার পর সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে আইসল্যান্ডে আরও একটি গণভোট আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব সদস্য দেশের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে।

২০০৯ সালে শুরু হয়েছিল সদস্যপদের যাত্রা

২০০৯ সালে আইসল্যান্ড প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল। সে সময় দেশটির বড় ব্যাংকগুলোর পতনের কারণে অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটের মধ্যে ছিল।

তবে ২০১৩ সালে আলোচনা কার্যত থেমে যায়। বিশেষ করে মাছ ধরার অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

বর্তমানে আইসল্যান্ড ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। দেশটি উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একটি এবং নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনী না থাকলেও এর নিরাপত্তা কাঠামো ইউরোপ ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

রাশিয়াকে ঘিরে নিরাপত্তা বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ

Image

আইসল্যান্ডের কেফ্লাভিক বিমানঘাঁটিতে নিয়মিত মিত্রদেশগুলোর সামরিক বিমান অবস্থান করে। বিভিন্ন সদস্য দেশ পালাক্রমে যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান পরিচালনা করে এবং উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে রুশ সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে।

২০২৩ সাল থেকে আইসল্যান্ড তার জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। ২০২৫ সালে এমন একটি সাবমেরিন প্রথমবারের মতো রেইকিয়াভিকে বন্দরে আসে। সে সময় শর্ত ছিল, সাবমেরিনটিতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না।

অর্থনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তি

আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্টাদোত্তির ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি পরবর্তী সময়ে সদস্যপদ নিয়ে আরেকটি গণভোট আয়োজনেরও সমর্থক।

তার যুক্তি, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে পারলে আইসল্যান্ডের অর্থনীতি দ্বিপক্ষীয় শুল্কের ঝুঁকি থেকে তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকবে। ছোট অর্থনীতির দেশ হিসেবে এককভাবে বড় দেশগুলোর সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ মোকাবিলা করা আইসল্যান্ডের জন্য কঠিন হতে পারে।

ফলে এই গণভোট শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রশ্ন নয়; আইসল্যান্ডের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে আইসল্যান্ডের সদস্যপদ নিয়ে আলোচনার দরজা খুলবে কি না, এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরো দেশ।

Image

 

Image