ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) প্রিপেইড মিটারে অস্বাভাবিক টাকা কেটে নেওয়া, কথিত ‘ঘোস্ট বিল’, অস্বাভাবিক সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ট্যারিফ পরিবর্তনের পর দীর্ঘ টোকেন তৈরি হওয়া নিয়ে গ্রাহকদের উদ্বেগের ব্যাখ্যা দিয়েছে। এসব বিষয়ে ভোগান্তিতে পড়লে গ্রাহকদের ডিপিডিসির গ্রাহকসেবা কেন্দ্র অথবা ১৬১১৬ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
প্রিপেইড মিটারে কী কী চার্জ কাটা হয়
ডিপিডিসি জানিয়েছে, অনুমোদিত লোডের বিপরীতে মাসে একবার ডিমান্ড চার্জ কাটা হয়। কোনো মাসে গ্রাহক রিচার্জ না করলে সেই মাসগুলোর বকেয়া ডিমান্ড চার্জ এবং বর্তমান মাসের চার্জ পরবর্তী রিচার্জের সময় একসঙ্গে কেটে নেওয়া হয়। পোস্টপেইড গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ডিমান্ড চার্জ প্রযোজ্য।
মিটার ভাড়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নিয়ম। গ্রাহক নিজে প্রিপেইড মিটার কিনে স্থাপন করলে কোনো ভাড়া দিতে হয় না। তবে ডিপিডিসির সরবরাহ করা মিটারের ক্ষেত্রে এক ফেজ মিটারে মাসে ৪০ টাকা এবং তিন ফেজ মিটারে ২৫০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।
এ ছাড়া প্রতিবার রিচার্জ করা অর্থ থেকে সরকার নির্ধারিত হারে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর কেটে নেওয়া হয়।
ট্যারিফ পরিবর্তনে কেন দীর্ঘ টোকেন
বিদ্যুতের ট্যারিফ পরিবর্তনের পর প্রথম রিচার্জের সময় প্রিপেইড মিটারে ২০০ থেকে ২২০ অঙ্কের দীর্ঘ টোকেন তৈরি হতে পারে। ডিপিডিসির ভাষ্য, মিটারের কারিগরি বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎ ট্যারিফ শ্রেণিতে একাধিক ধাপ বা স্ল্যাব থাকার কারণে এমনটি ঘটে।
তবে দীর্ঘ টোকেন শুধু ট্যারিফ পরিবর্তনের পর প্রথম রিচার্জের ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয়। পরবর্তী রিচার্জে আবার প্রচলিত ২০ অঙ্কের টোকেন ব্যবহার করা হয়।
দীর্ঘ টোকেন ম্যানুয়ালি প্রবেশ করানোর ভোগান্তি কমাতে প্রিপেইড মিটার অনলাইনে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে ডিপিডিসি। বর্তমানে এএমআই প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। এসব মিটারে টোকেনের প্রয়োজন নেই এবং বিকাশ ও রকেটসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজেই রিচার্জ করা যাবে।
‘ঘোস্ট বিল’ নিয়ে ডিপিডিসির ব্যাখ্যা
প্রিপেইড মিটারে প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বেশি অর্থ কেটে নেওয়া বা তথাকথিত ‘ঘোস্ট বিল’ তৈরির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে ডিপিডিসি। সংস্থাটির দাবি, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত খুচরা বিদ্যুৎ মূল্যের ভিত্তিতে প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ বিলের অর্থ কেটে নেওয়া হয়।
তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে অস্বাভাবিক কর্তন হতে পারে। ডিপিডিসি এ ক্ষেত্রে কমন নিউট্রাল-সংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে।
ছুটির দিনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না
সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা ডিপিডিসির নির্ধারিত ‘ফ্রেন্ডলি আওয়ার’—বিকেল ৪টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত—প্রিপেইড মিটারের ব্যালান্স শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় না। ওই সময় মিটার ঋণাত্মক ব্যালান্সে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখে। পরবর্তী রিচার্জের সময় সেই অর্থ সমন্বয় করা হয়।
জরুরি প্রয়োজনে ব্যালান্স শেষ হয়ে যাওয়ার পর ইমার্জেন্সি ব্যালান্স চালু করেও বিদ্যুৎ ব্যবহার চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তী রিচার্জে ওই অর্থ সমন্বয় করা হবে।
সমস্যায় ১৬১১৬ নম্বরে যোগাযোগ
অস্বাভাবিক অর্থ কাটা, বিলিংয়ে অসঙ্গতি কিংবা কারিগরি সমস্যার কারণে অপ্রত্যাশিত সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ডিপিডিসি। এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকসেবা বা অভিযোগ কেন্দ্রে যোগাযোগ করা যাবে। পাশাপাশি ১৬১১৬ নম্বরে ডিপিডিসির হটলাইনে অভিযোগ জানানো যাবে।
অভিযোগের সময় মিটার নম্বর, গ্রাহক নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। ডিপিডিসি জানিয়েছে, অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















