চিনি এড়াতে অনেকেই জাইলিটলকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বেছে নেন। চিনি নেই, ক্যালরি কম এবং রক্তে শর্করা ও ইনসুলিনের মাত্রায় তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে—এমন বৈশিষ্ট্যের কারণে চিনি ছাড়া পানীয়, খাবার, বেকারি পণ্য, চুইংগাম, টুথপেস্ট ও মুখ পরিষ্কারের তরলে এর ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় জাইলিটলের সঙ্গে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং মৃত্যুঝুঁকির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে।
ছয় বছরে ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ বেশি
জার্মানির গবেষকেরা কানাডা ও যুক্তরাজ্যের দুটি দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এতে মোট ১৭ হাজার ৭১০ জন অংশ নেন।
গবেষণায় দেখা যায়, যাদের রক্তে জাইলিটলের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল, তাদের হৃদ্রোগজনিত গুরুতর ঘটনার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব ঘটনার মধ্যে ছিল হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া, স্ট্রোক এবং মৃত্যু।
প্রায় ছয় বছরের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রক্তে জাইলিটলের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এসব গুরুতর হৃদ্রোগজনিত ঘটনার ঝুঁকি সবচেয়ে কম মাত্রার ব্যক্তিদের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি ছিল। বয়স, লিঙ্গ, ধূমপান, রক্তের চর্বির মাত্রা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক দেখা গেছে।
রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে সম্পর্কের ইঙ্গিত
গবেষকদের আগের গবেষণাতেও জাইলিটল নিয়ে উদ্বেগের কারণ পাওয়া গিয়েছিল। তাদের মতে, জাইলিটল রক্তের অণুচক্রিকাকে আরও সহজে জমাট বাঁধতে সহায়তা করতে পারে। অতিরিক্ত রক্ত জমাট বাঁধা হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
গবেষণার প্রধান লেখক হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ মার্কো ভিটকোভস্কির মতে, আগের গবেষণায় উচ্চ ঝুঁকির মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে জাইলিটলের বেশি মাত্রার সঙ্গে হৃদ্রোগজনিত ঘটনার সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল। এবার আরও বড় পরিসরের সাধারণ জনগোষ্ঠীর ওপর দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে।
তবে জাইলিটলই সরাসরি কারণ—এখনো বলা যাচ্ছে না
গবেষণাটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক হওয়ায় রক্তে জাইলিটলের উচ্চ মাত্রাই যে সরাসরি হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা মৃত্যুর কারণ—এমন সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া যায় না। গবেষণায় একটি সম্পর্ক বা ঝুঁকির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে; কারণ ও ফলাফলের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া জাইলিটল শরীরেও স্বাভাবিকভাবে তৈরি হয় এবং বিভিন্ন খাবারেও এটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। তাই রক্তে জাইলিটলের মাত্রা বেশি হওয়ার পেছনে শরীরের নিজস্ব বিপাকক্রিয়া এবং খাদ্যাভ্যাস—দুই বিষয়ই ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণাটি বর্তমানে মিউনিখে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় হৃদ্রোগ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। জাইলিটল দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্রের ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















