একসময় রেশমি স্কার্ফ মানেই ছিল পুরোনো দিনের আলমারিতে যত্ন করে তুলে রাখা কোনো স্মৃতিচিহ্ন। নানির পোশাকের সঙ্গে মানানসই সেই স্কার্ফকে অনেকেই আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দেখলেও আধুনিক পোশাকে এর ব্যবহার যেন ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের শরৎ মৌসুমে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। রেশমি স্কার্ফ আবারও নতুন রূপে ফিরছে ফ্যাশনের মঞ্চে।
পুরোনো স্মৃতি থেকে নতুন আকর্ষণ
রেশমি স্কার্ফের সঙ্গে একদিকে যেমন পুরোনো দিনের সৌন্দর্যের সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির নানা স্মৃতি। একসময় গ্রেস কেলির সমুদ্রতীরের পরিশীলিত সাজে স্কার্ফ ছিল অনিবার্য অনুষঙ্গ। দীর্ঘদিন তাই রেশমি স্কার্ফকে আধুনিকতার চেয়ে অতীতের ফ্যাশনের প্রতীক হিসেবেই দেখা হয়েছে।
এবার স্কার্ফই হয়ে উঠছে পোশাকের প্রধান আকর্ষণ
ফ্যাশন জগতে এখন স্কার্ফকে শুধু গলায় বা মাথায় জড়ানোর অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এটিকে সরাসরি পোশাকের অংশ হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। কখনো গলায় শক্ত করে বেঁধে ব্যান্ডানার মতো সাজানো হচ্ছে, কখনো আবার লম্বা করে কাঁধের ওপর ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। বড় রেশমি স্কার্ফকে এমনকি শরীরের ওপর জড়িয়ে পোশাকের রূপও দেওয়া হচ্ছে।
গলায় বাঁধার সহজ কৌশলেই বদলে যাচ্ছে সাজ
সাদা শার্ট বা সাধারণ ব্লেজারের সঙ্গে গলায় ছোট করে বাঁধা একটি রঙিন রেশমি স্কার্ফ পুরো পোশাককে মুহূর্তেই আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। আবার স্কার্ফের দুই প্রান্ত সামনে ঝুলিয়ে রাখলে সাজে আসে স্বাভাবিক ও কিছুটা স্বচ্ছন্দ ভাব।
চলতি ধারায় স্কার্ফকে গলার কাছে ব্যান্ডানার মতো বাঁধার প্রবণতাও বেশ জনপ্রিয়। এর সঙ্গে বড় আকারের ব্লেজার বা সাদামাটা পোশাক মিলিয়ে নিলে পুরোনো ধাঁচের স্কার্ফও হয়ে উঠতে পারে আধুনিক ও পরিশীলিত।
পুরোনো স্কার্ফের নতুন জীবন
এই প্রবণতার অন্যতম আকর্ষণ হলো পুরোনো নকশার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ। এরিয়া-র শরৎ ২০২৬-এর সংগ্রহে ব্যবহৃত রেশমি স্কার্ফগুলোর অনুপ্রেরণা এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো স্কার্ফ থেকে। ফলে অতীতের নকশা হারিয়ে যাচ্ছে না; বরং নতুন পোশাকের মাধ্যমে নতুন জীবন পাচ্ছে।
রেশমের কোমলতা, উজ্জ্বল রং ও বৈচিত্র্যময় নকশা একে একই সঙ্গে বিলাসী ও সৃজনশীল করে তুলছে। তাই স্কার্ফ এখন আর সাজের শেষ মুহূর্তের ছোট্ট সংযোজন নয়; অনেক ক্ষেত্রেই এটিই হয়ে উঠছে পুরো পোশাকের কেন্দ্রবিন্দু।
কেন আবার জনপ্রিয় হচ্ছে রেশমি স্কার্ফ
ফ্যাশনের এই প্রত্যাবর্তনের পেছনে রয়েছে পুরোনো ও নতুনের মিশ্রণ। মানুষ এখন এমন পোশাকের দিকে ঝুঁকছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশের সুযোগ থাকে। রেশমি স্কার্ফ সেই সুযোগটি সহজেই তৈরি করতে পারে।
একটি সাধারণ পোশাকের সঙ্গে গলায় জড়ানো স্কার্ফ যেমন পুরো সাজ বদলে দিতে পারে, তেমনি সেটিকে কোমরে, কাঁধে কিংবা শরীরের ওপর ভিন্নভাবে জড়িয়ে একেবারে নতুন চেহারাও দেওয়া সম্ভব। ২০২৬ সালের ফ্যাশনে এই বহুমুখিতাই রেশমি স্কার্ফকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
যে পোশাক-অনুষঙ্গকে একসময় পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে করা হতো, সেটিই এখন নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতার অংশ। রেশমি স্কার্ফের এই প্রত্যাবর্তন তাই শুধু একটি ফ্যাশন প্রবণতা নয়, বরং পুরোনো সৌন্দর্যকে নতুন চোখে দেখারও একটি উদাহরণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















